বিশ্বব্যাংকের ৫০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন

চার লেনে উন্নীত হবে পশ্চিমাঞ্চলের মহাসড়ক

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ০৭:৫০ এএম

দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগ উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হচ্ছে। ভোমরা থেকে সাতক্ষীরা, নভারণ যশোর, ঝিনেদা মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। বর্তমানে সড়কটি দুই লেনের। সড়ক ধরে অপটিক্যাল ফাইবার কেব্লও যাবে। এর মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার কাজ সহজ হবে। এতে সরাসরি দুই কোটি মানুষ উপকৃত হবে। জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট নামে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজে ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে বিশ^ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত মঙ্গলবার। ওয়াশিংটনে সংস্থার প্রধান কার্যালয় এই অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ঋণ অনুমোদনের এই তথ্য জানানো হয়।

ভোমরা-ঝিনেদা ১১০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে নিরাপদ এবং বৈরী আবহাওয়ায় টিকে থাকার উপযোগী করে নির্মাণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে যশোর থেকে ঝিনেদা পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া ৬০০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৩২টি স্থানীয় বাজার উন্নয়ন করা হবে। এতে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতি বাড়বে। সড়ক নিরাপত্তায় ধীরগতির পরিবহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন থাকবে।

ঋণ অনুমোদন উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে বিশ^ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেছেন, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল কৃষি এবং প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত পণ্যে সমৃদ্ধ। ফলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যদ্বার হওয়ার সম্ভাবনা আছে এ অঞ্চলের। এই প্রকল্প সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়ক হবে। উৎপাদিত পণ্য খামার থেকে হাঁটে, রাজধানী ঢাকা এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও যেতে পারে। এভাবে বাণিজ্য এবং ট্রানজিট ও করিডোরকে শক্তিশালী করবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়াতে চার লেনের মহাসড়কের পাশে ফাইবার অপটিক্যাল কেব্ল সংযুক্ত থাকবে। কভিড-১৯-এর মতো অন্যান্য সংকটে জরুরি সহায়তা এবং ব্যবসা পরিচালনায় ইন্টারনেট সেবা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে বিশ^ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরিবহন বিশেষজ্ঞ রাজেশ রোহাতজি বলেন, কভিড-১৯-এর প্রভাবে দরিদ্ররা কাজ এবং আয় হারিয়েছে। এই প্রকল্প তাদের সহায়তায় কাজে আসবে। প্রকল্পে শ্রমঘন কাজে চাহিদায় তাদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এমনকি করোনার পরেও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের  (ইআরডি) বিশ^ব্যাংক উইংয়ের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব সাহাবুদ্দীন পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ^ব্যাংকের সঙ্গে আগেই এই সংক্রান্ত আলোচনা শেষ করেছেন তারা। ৫০ কোটি ডলারের তাদের এই ঋণ সহায়তা বিশ^ব্যাংকের বিশেষ রেয়াতি ঋণ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডা-১৮) অধীনে সর্বশেষ সহায়তা। এই ৫০ কোটি মিলে মোট ৫০০ কোটি ডলার সহায়তা পাওয়া গেছে। আগামী আইডায় ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা চেয়েছেন তারা। করোনার কারণে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ঋণ পেতে এখন সব দেশই প্রতিযোগিতা করে। সে কারণে হয়তো প্রার্থিত সব অর্থই পাওয়া যাবে না। তবে আইডার বর্তমান মেয়াদেও সমপরিমাণ অর্থাৎ ৫০০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।

আইডার নিয়ম অনুযায়ী বিশ^ব্যাংকের ঋণে শর্ত অনুযায়ী ৪ বছরের রেয়াতকালসহ ৩৪ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ মোট ২ শতাংশ সুদ কার্যকর রয়েছে এই ঋণে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত