পাসপোর্টে স্বাস্থ্য রিপোর্ট থাকার সম্ভাবনা প্রবল

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ১১:৩০ পিএম

করোনা শুরুর প্রাক্কালে টেকনোলিজর ব্যবহার নিয়ে টুকটাক পোস্ট দিয়েছি। আমাদের মতো অতি সাধারণদের ফেইসবুকে দুই- চার কলাম পোস্ট দেওয়ার বাইরে আর কী করার আছে? যাই হোক, বোদ্ধাদের সব প্রেডিকশন ফেলে দিয়ে করোনা আপাতত জায়গা করে নিয়েছে দুনিয়ায়, আর বিশ্বজুড়ে চলছে নানা পরিকল্পনা। উন্নত দেশগুলোর বিজনেস প্রসেসের নানা প্রস্তুতি চলছে। নানা মেরুকরণে পড়তে যাচ্ছে চিরাচরিত নানা প্রসেস।  আর ডিজিটাইলাইজেশন একটি বিশাল নিয়ামক হিসাবে কাজ করছে আরও করবে ।

কোন পোস্টে হয়ত আমি উল্লেখ করেছিলাম, এখানকার সরকারি সংস্থা রিসার্চ করছে কীভাবে স্বাস্থ্যের রিপোর্ট পাসপোর্টের চিপে এমভেড করা যায়। আর সেটা খুব তাড়াতাড়ি করবে বলে মনে হয় (যতটুকু জানা যাচ্ছে )। তার মানে করোনার ম্যানুয়েল রিপোর্ট নিয়ে কোরিয়ানদের বগলদাবা করে দৌড়াতে হবে না, অন্য দেশের ইমিগ্রেশনে মেশিনে বা কিয়স্কে গিয়ে পাসপোর্ট দেওয়ার সাথে সাথে আপডেটেড স্বাস্হ্য রিপোর্ট শেয়ার করে দেবে। 

পৃথিবীব্যাপী ইমিগ্রেশন সংস্থার চাপে যেভাবে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এসেছে, তেমনি পাসপোর্টে স্বাস্হ্য রিপোর্ট থাকার পরিকল্পনা হয়ত বিশ্বব্যাপী আসার সম্ভবনা প্রবল। এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে, আমাদের দেশের জনগণের বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা সঙ্কুচিত না হয়ে পড়ে। আমরা আগে হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে নানা দুর্ভোগে পড়তাম, কারণ আমাদের হাতে লেখা পাসপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বা রেটিং ছিল তলানিতে। 

কোরিয়াতে আপাতত ভিসা বন্ধ নিয়ে কোরিয়া প্রবাসী আমাদের সবার নানা উৎকণ্ঠা চলছে, আসলে কোরিয়ার সরকারি নানা সংস্হার কাছে আমাদের ডাটার গ্রহণযোগ্যতা না থাকা একটি বড় কারণ। যদিও ফ্লাই করার জন্য করোনার রিপোর্ট চাওয়া হয়নি । 

গতবার যখন আমি ঢাকায় কোনো এক কাজে কোরিয়ান দূতাবাসে গেলাম, কথায় কথায় কনস্যুলার সেকশনের কোরিয়ান কর্মকর্তা বলছিলেন, তোমাদের ব্যাংক, সরকারি অফিস কিংবা যে কোনো অথরিটির ডকুমেন্টের বিশ্বাস রাখা কঠিন, এটাই রূঢ় বাস্তবতা। সেমি ডিজিটাইলাইজেশন হলেও ইন্ট্রেগ্রেটেড প্লাটফর্ম না থাকায়, ডাটার ভ্যালিডেশন করা সহজ নয়।  

বাংলাদেশে ভিসা বন্ধসহ এখানে (কোরিয়ায়) গত কয়েকদিনের ঘটনায় অনেক কোরিয়ান বন্ধু উষ্মা প্রকাশ করেই আমাদের দেশের বর্তমান নানা অব্যবস্হার কথা বলছিলেন। গ্লোবালাইজেশনের এ টাইমে কোনো কিছুই চাপা থাকে না, দেশে অনেক কিছু নিয়ে আমরা মেকি অহংবোধ ভুগি। আসলে আমরা সবাই পজেটিভ বাংলাদেশ চাই, সত্যিকারের অহংবোধ নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে চাই ! তার দায় আমরা যারা প্রবাসে আছি , তাদের সঙ্গে বড় দায় যারা দেশে নানা ব্যবস্হাপনায় জড়িত তাদের বেশি।

সফটওয়্যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টাইকুন সিস্টেম লিমিটেডের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা এম এন ইসলামের ফেইসবুক স্ট্যাটাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত