সচিবালয়ে বসে থাকা মন্ত্রীর একমাত্র কাজ নয় : জাহিদ মালেক

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৬:২২ এএম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সচিবালয়ে বসে থাকাই তার একমাত্র কাজ নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী অফিস করেন না’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে করোনার এই দুঃসময়ে কাজ করতে কেবল সচিবালয়ে এসে বসে থাকাই মন্ত্রীর একমাত্র কাজ নয়। বরং দেশের কোন হাসপাতালে কী কাজ হচ্ছে, মানুষ হাসপাতাল থেকে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাচ্ছে কি-না, চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি-না, কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে ফিরে যায় কি-না এগুলো দেখভাল করে ও খোঁজ নিয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেওয়াটাই এখন আসল কাজ।’

গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী অফিস করেন না’ শিরোনামে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে সে প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, পরিবেশিত সংবাদটি মিথ্যা ও জনমনে উসকানিমূলক। ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী অফিস করেন না’ এই শিরোনামেই গলদ রয়েছে। মূলত পত্রিকাটিতে বলা হয়, গত ২৫ মে ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের ছুটির পর থেকেই মন্ত্রণালয়ে অনিয়মিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনাটি হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা গত ২৭ মে থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। তার পূর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব করোনায় আক্রান্ত থাকাকালে আরেক দফা ১৪ দিনের হোম আইসোলেশনে থাকতে হয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তারপর স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব আলী নূর সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নানের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদও করোনায় আক্রান্ত হন। সচিবালয়ে বর্তমানে মন্ত্রীর দপ্তরে তিনজনসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব থেকে অন্যান্য কর্মচারীসহ ৪৫ জন করোনায় আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ রকম অবস্থায় নিয়মিত অফিসে আসার বিপরীতে অনলাইনে নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়াটাও কম জরুরি নয়।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘যদি নিষ্ক্রিয়ই থাকতাম তাহলে কীভাবে মাত্র একটি টেস্টিং ল্যাব থেকে ৬৬টি টেস্টিং ল্যাবে পরিণত হলো, মাত্র ১০০ করোনা পরীক্ষা থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ থেকে ১৯ হাজারে উত্তীর্ণ হলো। মাত্র ১৫ দিন সময়ে বসুন্ধরায় ২০০০ বেড, উত্তর সিটি করপোরেশন মার্কেট ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে মোট প্রায় ৩০০০ বেড, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, সিকদার মেডিকেলের মতো বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা শুরু হলো? সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলো। পাশাপাশি শুধু ঢাকায় থাকা কিছু আইসিইউ সুবিধাকে কীভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলো। মাত্র ১০ দিনে ২০০০ নতুন চিকিৎসক ও প্রায় ৬ হাজার নতুন নার্স নিয়োগ হলো?’ অন্তত ৭০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপনের কাজ, মেডিকেল কলেজে অনলাইনে পড়ালেখা, অনলাইনেই পরীক্ষা ব্যবস্থা শুরু করা, সকল হাসপাতালে খালি বেড, চিকিৎসক, নার্স সংখ্যার আপডেট তালিকা প্রকাশিত অবস্থায় দৃষ্টিগোচর করার কাজগুলোও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাতে নিয়েছেন বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এতে বলা হয়, এত কিছুর পরও স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধি ঠিকভাবে মেনে চলেছেন। কোনো একটি সরকারি ফাইল এক দিনের জন্যও পেন্ডিং অবস্থায় রাখেননি। প্রতিদিনের সরকারি কর্মকা- প্রতিদিনই সমাপ্ত করেছেন। অথচ পত্রিকায় প্রকাশিত এ ধরনের সংবাদের মাধ্যমে জনমনে সব সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত