ফুঁসছে ব্রহ্মপুত্র বন্যার আশঙ্কা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৬:৩৯ এএম

কুড়িগ্রামের প্রধান তিনটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সব পয়েন্টে বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলার পানি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদ-নদীর পানিতে প্লাবিত হতে পারে সংলগ্ন এলাকা। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন আভাস দিয়েছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচে, ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল সরকার জানান, উজানে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে সেখানে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করেছে। এতে তিস্তা ও ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের নিচু চরাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ওইসব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, অব্যাহত নদীর পানি বাড়ায় তার ইউনিয়নের দাগারকুঠি, চর গুজিমারী, নয়াদাড়া, গাবুরজান, শ্যামপুর ও কামারটারিতে অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। এতে চরাঞ্চলের আপৎকালীন ফল চীনা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বেগুন ও মরিচচাষিরা।

ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি পরিমাপক মাহফুজ দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল দুপুর ১২টায় নেওয়া পানির পরিমাপে দেখা যাচ্ছে নদের পানি ২৩ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটার ছিল। বেলা ৩টায় রিডিংয়ে হয়তো ৩ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে। তবে পানি বাড়ার যে গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এ নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ধরলা সেতু পয়েন্টে পানি পরিমাপক হাবিব রহমান জানান, পানি বাড়ার গতিপ্রকৃতিতে তার মনে হচ্ছে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

তিস্তায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এর গতি খুব ধীর। ফলে এই মুহূর্তে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা কম।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২৭-২৮ জুনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে, এমন পূর্বাভাস তারা পেয়েছেন। এতে জেলা সদরের কয়েকটি ইউনিয়ন, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে তা হবে স্বল্পমেয়াদি।

বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বলেন, ইতিমধ্যে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শুকনো খাবারের প্যাকেট, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত