ঢামেক করোনা ইউনিটে ৫৪ দিনে ৬৫০ মৃত্যু

চিকিৎসা না পেয়ে মরছে সাধারণ রোগীরাও

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৬:৪৩ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা শুরুর ৫৪ দিন পার হয়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন সাড়ে ছয়শ’ রোগী। এর বাইরে সাধারণ মৃত্যুতো রয়েছেই। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢামেকের করোনা ইউনিটে মারা গেছে ১৭ জন। তারমধ্যে দুজনের করোনা পজিটিভ ছিল। বাকি ১৫ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এভাবে প্রতিদিন উপসর্গ নিয়ে এবং উপসর্গ ছাড়া ঢামেকে মারা যাচ্ছেন অনেক রোগী। এ পরিস্থিতিতে ঢামেকে আসা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ব্যাপক। সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না পাওয়া এবং অনেক রোগী ফিরে যাওয়ার বিষয়টি যেন দেখারও কেউ নেই।

গত বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে একটি মরদেহ জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন স্বজনরা। মৃত ব্যক্তির ছেলে বাহাউদ্দিন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন, আর বলছিলেন, ‘এমন হাসপাতালে কেন যে বাবাকে নিয়ে এলাম!’ বাহাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাড়ি রাজধানীর কদমতলীর দনিয়ায়। তার বাবা মিয়াজি উদ্দিনের (৮০) শুধু ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল। বুধবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখনই তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে চলে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে এসেই পড়েন বিপাকে। নেই হাসপাতালের কোনো কর্মচারী, নেই হুইলচেয়ার বা অক্সিজেনের কোনো ব্যবস্থা। পরে জরুরি বিভাগ থেকে ট্রলি নিয়ে এসে বাবাকে নিয়ে যান ছয়তলায়। সেখানে গিয়ে পড়েন আরও বিপদে। নেই কোনো চিকিৎসক বা কোনো নার্স।

বাহাউদ্দিন আক্ষেপ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর এক চিকিৎসক এসে বলেন, আগে নার্সকে দেখাতে। নার্সের কাছে গেলে বলেন, আগে চিকিৎসক দেখবেন। এভাবে কিছুক্ষণ পার হওয়ার পর দেখি, বাবা আর নড়াচড়া করছেন না। পরে এক ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে ইসিজি করে দেখা যায়, বাবা দুনিয়াতে আর নেই।’ শুধু বাহাউদ্দিনের বাবাই নয়, করোনা পরিস্থিতিতে এভাবে বিনা চিকিৎসায় ঢামেক হাসপাতালে সেবা নিতে এসে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি দেশে যুদ্ধ লাগলে সাধারণ জনগণও কিছু মারা যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটও এমন। করোনা এমন মহামারী আকার ধারণ করেছে যে, এখন করোনা আক্রান্তদের পাশাপাশি করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে কিছু সাধারণ রোগীও মারা যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক অনেক রোগী হাসপাতালে আসছে। এর মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়েও আসছে, এর বাইরেও আসছে। করোনা রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে কিছু সাধারণ রোগীও মারা যাচ্ছে। ডাক্তার-নার্সদেরও কিছু সমস্যা আছে। অনেকেই ভয়ে কাছে যেতে চান না। তবে আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢামেকের করোনা ইউনিটের মধ্যে হাসপাতালের নতুন ভবনে ৫২৪ জন এবং বার্ন ইউনিটে ১০২ জন রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, করোনা ইউনিটে কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী ছাড়াও উপসর্গ আছে এমন রোগী এবং নিউরো সার্জারি, অর্থোপেডিক্স ও শিশু বিভাগের রোগীরাও চিকিৎসা পাচ্ছে। এমনকি করোনা আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসাও দেওয়া হয়। অনেক সাধারণ রোগী আছে যারা বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে শেষ মুহূর্তে ঢামেকে আসে। যখন আসে তখন চিকিৎসকদের আর কিছু করার থাকে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত