লা লিগায় শীর্ষস্থান নিয়ে ইঁদুর-বেড়াল লড়াইয়ে আবার শীর্ষে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার অ্যাথলেতিকো বিলবাওকে ১-০ গোলে হারিয়ে বার্সা উঠেছিল শীর্ষে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মায়োর্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে তা পুনরুদ্ধার করেছে। ৩১ ম্যাচ শেষে দু’দলেরই পয়েন্ট সমান ৬৮। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে রিয়াল। লিগের আরও ৭ রাউন্ড বাকি। শনিবার সেলতা ভিগোতে খেলতে যাবে বার্সা। পরদিন এস্পানিওলের মাঠে ৩২তম ম্যাচ রিয়ালের।
পয়েন্ট টেবিলের ১৮ নম্বর দল মায়োর্কা। কিন্তু রিয়াল এই মৌসুমে যে তিনটি ম্যাচ হেরেছে, তার একটি এই মায়োর্কার বিপক্ষেই, গত বছর অক্টোবরে। তবে বুধবার আর ভুল করেনি লা ব্লাঙ্কোসরা। চার পরিবর্তন নিয়ে ডি স্টেফানো মাঠে নামে রিয়াল। একাদশে ছিলেন গ্যারেথ বেল। ম্যাচের ১৯ মিনিটে লুকা মদ্রিচের পাস থেকে বল পেয়ে চিপ মেরে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৫৬ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করেন রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস। লা লিগায় ২০০৮-০৯ মৌসুমের এজিকুয়েল গ্যারায়ের পর ডিফেন্ডার হিসেবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৮) এখন রামোসেরই। অবিশ্বাস্য মনে হলেও লিগে ৫২৮ দিন পর ফ্রি-কিকে গোল পেলেন কোনো রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে রিয়ালের হয়ে সর্বশেষ ফ্রি-কিকে গোল করেছিলেন দানি সেবালোস।
রামোস সম্পর্কে প্রশংসা ঝরেছে কোচ জিদানের কণ্ঠে, ‘সে অনুশীলনে প্রচুর চেষ্টা করেছে। ফ্রি-কিক থেকে গোল করাটা তার ভাবনায় ছিল। সে আমাদের দলের নেতা। তার এখানেই (রিয়াল) থাকা উচিত, এখানেই অবসর নেওয়া উচিত।’ এর আগে বার্সেলোনার জেরার্ড পিকে রিয়ালের প্রতি রেফারিদের দুর্বলতার অভিযোগ করেছিলেন। এর জবাবে রামোস বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে অনেক শোরগোল হচ্ছে কারণ আমরা শীর্ষে। এর আগে তো এত কথা হয়নি। মনে হয় না রেফারিরাও প্রভাবিত হয়। লিগে আমরা শীর্ষে এজন্য রেফারিদের ধন্যবাদ। মানুষের এসব ভাবনা ঠিক নয়।’
মায়োর্কা ম্যাচে হারলেও রেকর্ডের পাতায় নাম উঠিয়েছে তাদের দলের একজন। বুধবার ম্যাচের ৮৩ মিনিটে মায়োর্কার হয়ে বদলি হিসেবে খেলতে নামেন ১৫ বছর ২২৯ দিন বয়সের লুকা রোমেরো। আর তাতেই ৮১ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে লা লিগার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় এখন রোমেরো। এতদিন রেকর্ডটি ছিল সেলতা ভিগোর সাবেক ডিফেন্ডার ফ্রান্সিসকো বাও রদ্রিগেজের। ১৯৩৯ সালে স্পেনের শীর্ষ লিগে প্রথমবার খেলতে নেমেছিলেন ১৫ বছর ২৫৫ দিন বয়সে। প্রতিভাবান এই ফুটবলার মাঠে নামার আগে থেকেই পরিচিতি পান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তাকে বলা হচ্ছে ‘নতুন মেসি’। জন্ম মেক্সিকোয় হলেও আর্জেন্টাইন মা-বাবার সূত্রে বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। গত বছর দক্ষিণ আমেরিকার অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে লুকা রোমেরো খেলেছেন আর্জেন্টিনার হয়েই। এ বছর ডাক পেয়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে।
বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং জুভেন্তাসের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা রোমেরোকে এর আগে ভিয়ারিয়াল ও লেগানেসের বিপক্ষে স্কোয়াডে রেখেছিল মায়োর্কা। তবে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। ১০ বছর বয়সে বার্সায় ট্রায়াল দিতে এসে মন জিতে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবা-মা কাতালুনিয়ায় আসতে না চাওয়ায় ক্যাম্প ন্যু-তে আর যোগ দেওয়া হয়নি রোমেরোর।
