বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’

সরকার সিরিঞ্জ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে : রিজভী

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০৬:৪০ এএম

বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিলের’ মাধ্যমে সরকার সিরিঞ্জ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’র উদ্যোগে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপনের প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘বাড়িতে বাড়িতে বহু লোক আমাদের বলছেন, যেখানে বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১১-১২শ টাকা, সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিল আসছে। এই ভুতুড়ে বিলের জন্য গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সরকারের এদিকে কোনো ভ্রƒক্ষেপ নেই, সরকার এদিকে তাকাচ্ছে না। তারা নির্লজ্জভাবে গায়ের জোরে বছরে কয়েকবার করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সিরিঞ্জে করে যেমন রক্ত টান দেয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে এখন এই সরকার জনগণের শরীরে তেমনিভাবে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত টান দিচ্ছে। সরকার কর্র্তৃক সংসদে উত্থাপিত বিলের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের (সরকার) টাকা দরকার। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে জানেন? এটাও গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে। ৫ হাজার কয়েকশ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে জমা আছে। এই টাকা কার? এই টাকা মন্ত্রীদের, এই টাকা আমলাদের, এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকদের।’

সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘আজ ১১ থেকে ১২ বছর ধরে জনগণের এই টাকা আত্মসাৎ করে সুইস ব্যাংককে ফুলে-ফেঁপে একেবারে বিশাল মহীরুহে পরিণত করেছে তারা। এখন তাদের আরও টাকা দরকার, সুইস ব্যাংকে আরও কালো টাকা পাঠাতে হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে বছরে কয়েকবার বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করছে সরকার।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানুষ মরছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই, অক্সিমিটার নেই, চিকিৎসা নেই ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া। এতসব কথা হয়তো গণমাধ্যমে আসছে না।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে করোনা রোগী কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না। কারণ ওরা জনগণকে সুবিধা দেওয়া, জনগণের কষ্ট লাঘব করার কোনো কাজ করেনি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত ভেঙে গেছে, একেবারে ভঙ্গুর। মানুষ এখন কুকুর-বিড়ালের মতো রাস্তায় মারা যাচ্ছে, করোনা আক্রান্ত মানুষ রাস্তায় মারা যাচ্ছে। এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার উপহার, এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের উপহার।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘সরকার মনে করে আমি যেটা বলব সেটাই আইন। কেউ কিছু বললে লালঘরে পাঠিয়ে দেব, বেশি কথা বলো না, বেশি কথা বললে আমি একেবারে লালঘরে পাঠিয়ে দেব। বিরোধী দল ও বিরোধী মতের জন্য একেবারে পারমানেন্ট করে রেখেছি লালঘর, ইটের লাল দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আমাদের বন্দি করবেন করেন। তারপরও আমরা প্রতিবাদ করব। আমাদেরকে মামলা দেবেন, আমাদের কারাগারে নিয়ে যাবেন আমরা তো প্রস্তুত সব সময়। কিন্তু আপনার অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার-জুলুম আর এদেশের জনগণ কখনই মেনে নেবে না।’

মানববন্ধনে বিএনপির মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, ফিউচার অব বাংলাদেশের শওকত আজিজ, সাজ্জাদুল হানিফ বক্তব্য রাখেন। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সেলিম, ফয়সাল প্রধান, আহম্মেদ উল্লাহ, জুনায়েদ চৌধুরী, বাবু তানভীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে নেতাদের হাতে বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিলের’ প্রতিবাদে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত