টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ১০ নম্বর ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মফিজ উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের অন্ত নেই। তারা বলছেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা এমন কোনো ভাতা নেই যেখান থেকে এই ইউপি সদস্য কমিশন খান না। উপকারভোগীদের ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য ব্যক্তিভেদে ৩-৬ হাজার টাকা করে নেন মফিজ। সুবিধাভোগীরা কখনো অগ্রিম টাকা আবার কখনোবা ভাতার টাকার একটি অংশ দিতে বাধ্য হন এই ইউপি সদস্যকে। টাকা না দিলে মফিজ উদ্দিন কার্ড করে দেন না বলে অভিযোগ তার এলাকার ভোটারদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউপি সদস্য মফিজ উদ্দিনের হাতে নগদ টাকা তুলে না দিলে উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মিলছে না বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড। এছাড়া প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা পড়লেও তা দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত কারণে ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মফিজ উদ্দিন বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণে ব্যক্তিভেদে ৩-৬ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভাতাভোগীরা। তার চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারলে ভাতা পাওয়ার উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও মেলে না ভাতার কার্ড। সম্প্রতি ধুবড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে গিয়ে একাধিক ভাতাভোগীদের সঙ্গে কথা বললে এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়। গ্রামটির বাসিন্দা জোহরা, সেকান, রেহেনা, ফারুক ও সেন্টু অভিযোগ করে বলেন, ভাতাভোগীদের কার্ডে নতুন নাম্বার বসানো হবে জানিয়ে কিছুদিন আগে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০-৬০ টাকা করে নিয়েছেন ইউপি সদস্য মফিজ। ভুক্তভোগী জোহরা আক্ষেপ করে বলেন, তার প্রতিবন্ধী কার্ড নবায়ন করে দেওয়ার কথা বলে ২৭০০ টাকা নেন মফিজ উদ্দিন। কিন্তু প্রায় দশ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ভাতার কার্ড পাননি জোহরা। এ ঘটনায় গত ১৯ মে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. রফিকুল ইসলাম ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওইদিনই অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সৌরভ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউপি সদস্য মফিজের ভাই মৃত্যুবরণ করায় তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আগামী মাসের যেকোনো সময় তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।’
টাকার বিনিময়ে ভাতার কার্ড করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মফিজ উদ্দিন মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কার্ডধারী কোনো ভাতাভোগীর কাছ থেকে আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার সুনাম ক্ষুণœ করতে একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
অন্যদিকে নাগরপুরের ইউএনও সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউপি সদস্য মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
