করোনাভাইরাস শনাক্তের অ্যান্টিবডি কিট ‘জিআর কভিড-১৯ ডট ব্লোট’ নিবন্ধনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক গাইডলাইন অনুযায়ী নতুন করে আবেদন করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গতকাল শনিবার ওই আবেদনপত্র ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় নতুন ওই আবেদনের কথা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন গণস্বাাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।
তিনি বলেন, ‘ঔষধ প্রশাসন নতুন একটা গাইডলাইন দেখিয়েছে। তারা বলেছে, সেটার আওতায় আসতে হবে। নতুন গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ৩০টা পজিটিভ স্যাম্পল হতে হবে, ৮০টা নেগেটিভ স্যাম্পল হতে হবে এবং সেনসেটিভিটি স্পেসিফিক্যালি ৯০-এর বেশি হতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা যে কাজ করেছি, সেটা আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। এই গাইডলাইন আমাদের আগে জানানো হয়নি, বিএসএমএমইউ টিমকেও জানায়নি। এখন এটার আলোকে আমাদের কাজ আবার রি-অ্যারেঞ্জ করছি।’
গাইডলাইনের চেয়ে গণস্বাস্থ্যের কিটের ফল ভালো হওয়ার পরও ঔষধ প্রশাসন কেন নিবন্ধন দেয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ড. বিজন বলেন, ‘এটা বলে লাভ নেই। গাইডলাইন যেহেতু আমাদের এখানে আসছে, দেখি এর আলোকে আমরা কী করতে পারি। নতুন করে কিছু করব না, পেপারসগুলো রি-অ্যারেঞ্জ (কাগজপত্র পুনর্বিন্যাস) করব আর কি। ওরা বলছে ৩০, আমরা ৩০০ করছি। সুতরাং সেই দুশ্চিন্তা আমাদের নেই। এটা বিএসএমএমইউকেও ফলো করতে হবে মনে হচ্ছে। এটা তাদেরও জানানো হয়েছে। তারাও হয়তো এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। নতুন গাইডলাইনে যা বলেছে, তা অবশ্যই আমরা অর্জন করতে পারব। তবে এটা আগে জানালে আমাদের কাজ আরও সহজ হতো।’
গত বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্যের কাছে পাঠানো জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক ই-মেইলে বলা হয়, গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিটের উন্নয়নে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের টেকনিক্যাল কমিটি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। প্রায় এক মাস ধরে গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শেষে গত ১৬ জুন ঔষধ প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এর ৯ দিন পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঔষধ প্রশাসন এক ই-মেইলে গণস্বাস্থ্যকে জানায়, তাদের অ্যান্টিবডি কিটের নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে নিবন্ধন পেতে একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়।
