বরিশালের হাজারো পরিবহন শ্রমিক ছাঁটাই আতঙ্কে ভুগছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ২ মাসের বেশি সময় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকাকালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়নি। গত ১ জুন থেকে ফের গণপরিবহন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে চলছে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই। মালিকপক্ষ বলছে, যাত্রী সংকটে প্রতি ট্রিপের খরচ উঠেছে না, তাই ছাঁটাই ছাড়া উপায় নেই। তবে বরিশালের শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসক করোনাকালে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ মাসে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের বেশ কয়েকজন শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কর্ম হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাঁটাই আতঙ্কে রয়েছেন নগরীর হাজারো পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী।
কোনো কারণ ছাড়াই ছাঁটাই হয়েছেন সাকুরা পরিবহনের টিকিট মাস্টার জহির, কলারবয় হাসু, শহিদ, মালেক, পারভেজ, মিজান ও প্রশান্ত। আর সৌদিয়া পরিবহনের কলারবয় নিলয়কে জুনের প্রথম সপ্তাহে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য পরিবহনেও অনেক শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। এ অবস্থায় চাকরি হারানোর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে অন্যদের মধ্যেও।
চাকরি হারানো মো. হাসু অভিযোগ করেন, ১৭-১৮ বছর তিনি সাকুরা পরিবহনে কলার বয়ের চাকরি করেছেন। করোনার কারণে মালিক চালাতে পারছেন না অজুহাত দেখিয়ে তিনিসহ অনেককে ছাঁটাই দিয়েছে। চাকরি হারিয়ে এখন পেট চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
চাকরি হারানো অন্য শ্রমিক-কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এখন মালিকদের লোকসান হয় না। তারপরও নানা অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।
সাকুরা পরিবহনের বরিশালের ম্যানেজার মো. আনিছুর রহমান বলেন, বরিশাল থেকে আগে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রিপ বাস চলাচল করত। এখন সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ ট্রিপ দিচ্ছেন। এতেও যাত্রী হয় না। ১০-১২ জন যাত্রী নিয়ে প্রতিটি বাস গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে খরচের টাকাও উঠছে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে খরচ সাশ্রয়ের জন্য কিছু শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা ছাড়া উপায় নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চাকরিচ্যুতদের আবার কাজে ফিরিয়ে আনা হবে।
বরিশাল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বিষয়টি শ্রমিক ইউনিয়নকে অবহিত করেনি। তারা লিখিতভাবে জানালে শ্রমিক ইউনিয়ন বিষয়টি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত। করোনার প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই মুহূর্তে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই অমানবিক। ছাঁটাই বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃতদের ফের কাজে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, সরকার পরিবহনের ভাড়াও বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা যুক্তিসংগত নয়। করোনাকালে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো অমানবিক কাজটি না করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
