তোপের মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০৭:১৫ এএম

কভিড-১৯ সংক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে পুরো মানবজাতি। প্রতিটি দেশই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে ভাইরাসের কাছে কতটা অসহায় তারা। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সম্ভবত ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’। করোনা সংক্রমণের পর থেকে এ সংস্থার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারার কারণে বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে বিশ্ব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে লিখেছেন জুবায়ের আহাম্মেদ

ড্যান ব্রাউনের লেখা বিশ্ববিখ্যাত বই ‘ইনফার্নো’ অনেকেই পড়েছেন। সেখানে অজ্ঞাত ভাইরাসের হুমকির বিপরীতে প্রফেসর ল্যাঙডনের পাশে রীতিমতো নায়কোচিত ভূমিকায় ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু উপন্যাস আর বাস্তবের ফারাক যে আকাশ-পাতাল, তা আবার প্রমাণিত হলো ২০২০ সালে এসে। বলা চলে, ‘কভিড-১৯’ ভাইরাসের বিপক্ষে এক রকম আত্মসমর্পণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যর্থতা তো আছেই, তার সঙ্গে যু ক্ত হয়েছে নিজেদের বক্তব্যে স্থির না থাকার মতো বিষয়। কভিড সংক্রমণে আসলে কী করণীয় বা ঠিক কতটা গবেষণা তারা করতে পেরেছে, কিছুই জানা যাচ্ছে না খুব স্পষ্ট করে। যার ফলে চারদিক থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিকে ভেসে আসছে সমালোচনার বাণী। সমালোচকদের মধ্যে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত।

দেরি করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই পুরো কভিড সংক্রমণকেই দেখছেন চীনের ষড়যন্ত্র হিসেবে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনের প্রতি নম্র মনোভাব এক প্রকার তাঁতিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অনুদান প্রদান এবং সংস্থার সব চুক্তি এবং কার্যক্রম থেকেও বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, সংস্থাটি ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে শুরু থেকেই খুব দেরিতে সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া অন্যান্য কাজেও তাদের ধীরগতির ব্যাপক সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। প্রায় একই রকম অভিযোগ করেছেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তারো আসো এবং তাদের অর্থমন্ত্রী। তাদের অভিযোগ ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চায়না স্বাস্থ্য সংস্থা হিসেবে চিনতে শুরু করেছে।

প্রায় একই রকম অভিযোগ করেছে তাইওয়ান। তাইওয়ান সরকারের অভিযোগ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কভিড-১৯ ইস্যুতে তাইওয়ানের সতর্কবার্তা এবং অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করেছে। যার মূল কারণ চীন কোনোভাবেই তাইওয়ানকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য মানতে রাজি ছিল না। আর এ কারণেই তাইওয়ানের কথা খুব একটা আমলে নেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে পড়েছে বেশ জটিল। সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সংস্থা পরিচালনায় দুর্বলতা নিয়ে। কভিড-সংক্রান্ত সব বিষয়ে আপাতদৃষ্টিতে চীনের ওপরই নির্ভর করছেন তিনি। বিভিন্ন সমালোচকের মতে, তিনি চীন সরকারের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেছেন ভাইরাস দমনের জন্য। যার ফলাফল হয়েছে শোচনীয়। চীন সরকার ভাইরাস দমনে বেশ কার্যকর হলেও বিপাকে পড়েছে পুরো বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করার সময় ঘেব্রেইয়েসাস বলেছিলেন, ‘চীনে কী হচ্ছে, সেটার জন্য এই ঘোষণা দেওয়া হয়নি বরং অন্যান্য দেশে যা ঘটছে সেটাই এ ঘোষণার মূল কারণ।’ এখানে উল্লেখ করা দরকার, ঘেব্রেইয়েসাস যখন এই ঘোষণা দিয়েছেন তখন চীনে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং অন্যান্য দেশেও সংক্রমিত সংখ্যা ছিল একশোর কাছাকাছি। এখানেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি সবার অভিযোগ, কেন চীনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ শনাক্ত হওয়ার পরও বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করল না স্বাস্থ্যসেবার সবচেয়ে দায়িত্বশীল সংগঠনটি। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দাবি করছে তারা ঘোষণা সঠিক সময়েই দিয়েছে এবং তারা এমন সময়ে ঘোষণা দিয়েছে যাতে সব সদস্যরাষ্ট্র নিজেদের সংগঠিত করতে এবং প্রস্তুতি নিতে যথাযথ সময় পায়। যদিও সে অর্থে কোনো দেশই প্রস্তুতি নিতে পারেনি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সদস্যদের সতর্ক করতে পারেনি, যার ফলে সারা বিশ্বে দেখা গিয়েছে ব্যাপক মহামারী।

চীনকে চাপ দিতে পারেনি

ডিসেম্বরে প্রথম চীনে নিউমোনিয়া আকারে কভিড-১৯ দেখা দিলে উহান প্রদেশের সরকারি পর্যায়ের সব কর্মকর্তা একদম নিষ্ক্রিয় ছিল। এমনকি উহান থেকে পেইচিং পর্যন্ত এ খবর আসেনি। চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একের পর এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই ভাইরাস খুব দ্রুত দমন করা সম্ভব। এমনকি জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যায়ে ভাইরাসটি চীনের সীমানা ছাড়িয়ে গেলেও নিজেদের বক্তব্যে অটল থাকেন চীনের চিকিৎসকরা। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা, এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও চীনের সঙ্গেই সুর মিলিয়ে বলেছিল, মানুষে মানুষে কভিড সংক্রমণের কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি। চীনের সেটন হল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক ইয়ানজং হুয়াং বলেন, ‘তারা আরও কঠোর হতে পারত, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে যখন সবকিছু সামলানো সম্ভব ছিল, তখন কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।’ ড. হুয়াং উল্লেখ করেন, ২০০২ ও ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে ডব্লিউএইচও চীন সরকারকে ব্যাপক চাপ দিতে থাকে এবং শুরুতেই বিশ্বব্যাপী সতর্কতা কার্যক্রম শুরু করে দেয়। যার ফলে পুরো বিশ্বে মাত্র ৭০০ প্রাণহানিতেই শেষ হয় এই তাণ্ডব। এমনকি সেই সময় চীন সরকারের সরাসরি সমালোচনাও করেছিল তারা। যার কিছুই এবারে দেখা যায়নি। চীন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির এই ব্যর্থতা থেকেই মূলত ট্রাম্প অনেক বেশি ক্ষিপ্ত ছিলেন সংস্থাটির প্রতি।

বাড়ছে চীনের প্রভাব

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংক বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্য সব ক্ষেত্রেই চীনের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য। বিশেষত চীন মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এ ধরনের কাজ শুরু করেন শি জিন পিংক। তবে চীন এ ক্ষেত্রে এগিয়েছে অনেকটা কৌশলী হয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার বদলে চীন ব্যবহার করেছে তাদের ওষুধশিল্পকে। দু-তিন বছর ধরেই চীনের ওষুধকে বৈশ্বিক অনেক পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বছরেও চীনের ওষুধ গণহারে সুপারিশ করায় সদস্য দেশগুলোর সমালোচনার শিকার হয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমনকি চলতি মহামারীর সময়েও বিভিন্ন নীতির ক্ষেত্রে চীনকেই অন্ধভাবে অনুকরণ করে চলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত মাসে নিজস্ব ওয়েবসাইটে কভিড প্রতিরোধে চীনের ভেষজ ওষুধের কথা উল্লেখ করে ফেলেছিল ডব্লিউএইচও। যদিও বিতর্কের মুখে খানিক বাদেই সরিয়ে ফেলা হয় সেটি। ড. হুয়াংয়ের মতে, ‘এটি চীনের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় আরও বড় পরিসরে যুক্ত হওয়ার একটি সাধারণ লক্ষণ মাত্র। এটি হয়তো সব দেশ বা সব মানুষকে খুব একটা সৃষ্টি প্রদান করবে না, তবে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এজেন্ডায় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’

পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তারা যেন নিজেদের কথার ঠিকানা নিজেরাই ভুলতে বসেছে। তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রীতিমতো হাসির খোরাক জুগিয়েছে সবাইকে। কিছুদিন আগে তাদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, ‘যেসব আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, তাদের থেকে অন্যদের মধ্যে করোনা-সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষীণ।’ কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আরেক বিবৃতির মাধ্যমে তারা ঘোষণা করে, ‘এই সম্পর্কে সঠিক গবেষণা এখনো হয়নি, তাই এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।’ এ ছাড়া আরও কিছু ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যেমন একপর্যায়ে এমন ঘোষণাও এসেছিল, মাস্ক পরলে কভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে অনেক বেশি। পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে এসেছিল তারা। আবার একই রকম দ্বিমত দেখা যায়, মৃত ব্যক্তি থেকে কভিড ছড়াবে কি না সে বক্তব্যেও।

বিভিন্ন দেশে এসব বিভ্রান্তিকর বক্তব্য চিকিৎসাসেবা এবং জনজীবনে স্বাভাবিক চলাচলে বেশ বাজে প্রভাব ফেলছে। আপাতত রোগের প্রকোপে দিশেহারা মানুষের কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যেকোনো বক্তব্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সে জায়গা থেকে সঠিক বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই সংস্থাটি। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় প্লাজমা ব্যবহার ইস্যুতে। প্লাজমা ব্যবহারের মাধ্যমে আপাতত বেশ সফলভাবেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কভিড মোকাবিলা করছেন চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে একপর্যায়ে বেশ ইতিবাচক ছিলেন সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক পরই আবার তিনি জানান, প্লাজমা ব্যবহার এখনো সঠিক গবেষণায় প্রমাণিত নয়। কিন্তু এর মধ্যেও থেমে নেই প্লাজমা ব্যবহার এবং সুস্থ হওয়ার হার। তবে কি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত নিজের ঠিকানা চিনতে পারছে না?

অতীত ও বর্তমানের তুলনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অতীত ও বর্তমান আচরণ পরীক্ষা করলে সবচেয়ে বড় আকারে এর ব্যর্থতার চিত্র ধরা যায়। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম মাসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যার ফলাফল হিসেবে মাত্র ৭০০ জনের প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ ছিল করোনাভাইরাসের প্রথম প্রজাতির থাবা। একই রকম সতর্কতা দেখা গিয়েছিল ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের সময়ে। বড় আকারে সংক্রমণ শুরুর আগেই সেবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। যদিও সেবার এটি অপ্রয়োজনীয় বলে প্রমাণিত হয়েছিল, তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বেশ সফল ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্যের অভিভাবক সংস্থাটি। কিন্তু কালের আবর্তনে যেন পথ হারাতে বসেছে তারা। ২০১৪ সালে ইবোলাভাইরাসের শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিশ্চুপ মনোভাব বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার সূত্রপাত ঘটায়। একপর্যায়ে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাধ্য হন আলাদা একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে। এমনকি ইবোলাভাইরাস ব্যাপক সংক্রমণের প্রায় পাঁচ মাস পর একে মহামারী উল্লেখ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

একই অবস্থা দেখা গিয়েছে এবারের কভিড সংক্রমণের ক্ষেত্রেও। চীনকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করায় অনেক সদস্য দেশই ক্ষিপ্ত টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাসের প্রতি। যদিও এ ব্যাপারে নিজের সাফাই গেয়ে তিনি দাবি করেন, সদস্য দেশগুলোর ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা তার নেই। অথচ এর আগে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশ কার্যকর ছিল তার সংস্থাটি। সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাই তাকে অনুরোধ করেন, ভাইরাস নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করার জন্য। যদিও তিনি ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চলমান কাজকেও সাধুবাদ জানিয়েছেন। লিখিত বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আমরা আমাদের ভুল থেকে শিখতে চাই, শিখতে চাই আমাদের শক্তির জায়গা থেকে এবং সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’ তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাসকে অনুরোধ করেন ভাইরাস মোকাবিলায় অধিক মনোযোগ দিতে। কিন্তু ছয় বিলিয়ন অনুদানের মধ্যে যে দেশটি একাই দুই দশমিক দুই বিলিয়ন অনুদান প্রদান করে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এবং অন্য দেশগুলোর ব্যাপক বিরোধিতা মাথায় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস কত দিন নিজেদের গবেষণা সঠিকভাবে চালাতে পারবেন, তা নিয়ে শঙ্কা থাকাটা অমূলক নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত