চলচ্চিত্র অনুদান নিয়ে ৫ সংগঠনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০৯:৩৭ পিএম

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের স্থুল এবং বিকৃত বিনোদনের প্রসার জনগণের অর্থে কোন অবস্থাতেই সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংগঠন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। গত ২৫ জুন চলচ্চিত্র অনুদানের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রবিবার গণমাধ্যমে এ বিজ্ঞপ্তিটি পাঠিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিদাতা সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম, বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটি, বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদ, বাংলাদেশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট, ফিল্ম উইদাউট ফিল্ম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের সরকারি অনুদান ঘোষণা করেছে। কিন্তু আমরা হতাশা এবং ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি, অনুদানের জন্য যে চলচ্চিত্র এবং পরিচালকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং অনেকেরই চলচ্চিত্র পরিচালনার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা আছে বলে আমাদের জানা নেই।

সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এবং শৈল্পিক চলচ্চিত্র নির্মাণের যে অঙ্গীকার অনুদান নীতিমালায় সন্নিবেশিত রয়েছে এই ঘোষণা তার ব্যত্যয় বলেই আমরা মনে করি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরেও চলচ্চিত্র সরকারি অনুদান নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই তা উপেক্ষা করে তাদের স্বেচ্ছাচার অব্যাহত রেখেছেন। এমন কী যে চূড়ান্ত কমিটি অনুদানের জন্য চলচ্চিত্র নির্বাচন করেন, চলচ্চিত্র বিষয়ে তাদের যোগ্যতাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী গণ এবং শিল্পমাধ্যম যা রাষ্ট্রের স্বপ্ন, সংবেদ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের স্থুল এবং বিকৃত বিনোদনের প্রসার জনগণের অর্থে কোন অবস্থাতেই সঠিক নয় বলে আমরা মনে করি। প্রজ্ঞাপনে পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের অনুপস্থিতি বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিরই নামান্তর। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে প্রকৃত অর্থপূর্ণ, সামাজিক দায়বদ্ধ, বাঙালি সংস্কৃতির প্রকাশ অব্যাহত থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত