ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ না হলে সব কারখানায় সর্বাত্মক আন্দোলন

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ০৬:৪১ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে ছাঁটাই বন্ধ করে শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। অন্যথায় সব কারখানা বন্ধ করে সর্বাত্মক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।

গতকাল রবিবার ছাঁটাই-মামলা-নির্যাতন বন্ধ এবং স্বাস্থ্য-চাকরি-খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিল্প এলাকার সহস্রাধিক শ্রমিক অংশ নেয়।

 সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের একটি মিছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হয়। পথে কদমফুল ফোয়ারার সন্নিকটে এবং মৎস্য ভবন মোড়ে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় মিছিল পুলিশি বাধা ভেঙে অগ্রসর হয়। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছলে আবারও পুলিশি বাধার মুখে শ্রমিকরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। পরে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি ও দাবিনামা প্রদান করে।   

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু বলেন, কারখানায় একদিকে শ্রমিকের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়ানোর সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি, অন্যদিকে লক্ষণ দেখা দিলেই শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজেটে শ্রমিকের রেশনিং ও বাসস্থানের জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলন করা হলেও সরকার আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি। এই মহামারীকালীন বাজেট অন্তত ব্যতিক্রম হতে পারত। অথচ দেশের মালিক শ্রেণির জন্য সব সুবিধা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা হলেও শ্রমিকের জন্য কোনোরকম ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা অর্থাৎ রেশনিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

তিনি  বলেন, মহামারীর এই অল্প সময়ে লক্ষাধিক শ্রমিক ছাঁটাই অতীতের সব দৃষ্টান্ত অতিক্রম করেছে। ১৩ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের প্যারাডাইস কেবল কারখানার শ্রমিকরা গত ২১ জুলাই ২০২০ থেকে ঢাকায় শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান করে যাচ্ছে, কিন্তু মালিককে আটক করে সংকটের সুরাহা করতে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না। ঢাকার মালিবাগের ড্রাগন সোয়েটার কারখানার মালিক শ্রমিকদের আইনি পাওনা বঞ্চিত করে কারখানা বন্ধ করেছে। তিনি অবিলম্বে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংকট সুরাহার দাবি জানান।

সমাবেশে গার্মেন্ট টিইউসির সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, মানুষ এত অসহায়ত্বের মধ্যে কখনই পড়েনি। সর্বস্ব দিয়েও চিকিৎসা মিলছে না। অন্যদিকে ন্যূনতম সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। মহামারীর সত্ত্বেও মালিকরা তাদের মুনাফার অঙ্ক ঠিক রাখতে শ্রমিক ছাঁটাই, শ্রমিকদের আইনগত পাওনা বঞ্চিত করাসহ ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে সরকারি দপ্তরের বারান্দায় দিনরাত ধরনা দিয়েও সুরাহা পাচ্ছে না শ্রমিকরা। প্রতিবাদ করায় গার্মেন্ট টিইউসি নেতৃবৃন্দসহ শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার হয়রানি চলছে। সরকার এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছাঁটাই-নির্যাতন ও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বন্ধ না হলে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, জালাল হাওলাদার, এমএ শাহীন, সাইফুল আল মামুন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত