ভার্চুয়াল আদালত সংক্রান্ত আইন না করতে চিঠি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ০৬:৪৩ এএম

শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল আদালত সংক্রান্ত প্রস্তাবিত ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আইন-২০২০’ জাতীয় সংসদে পাস না করার আবেদন জানিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)। গতকাল রবিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির কাছে ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হোসেন আলী খান হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়। চিঠিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আদালতের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চালু করার অনুরোধ জানান সমিতির নেতারা।

এতে বলা হয়, এশিয়ার বৃহত্তম ঢাকা বারে ২৫ হাজারের মতো আইনজীবী রয়েছেন। গত ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু হলেও এ নিয়ে অধিকাংশ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। যেহেতু আইনজীবীরা শুধু আইন পেশার ওপর নির্ভরশীল, তাই অধিকাংশ আইনজীবীই অর্থকষ্টে আছেন। আইনজীবীদের প্রশিক্ষণবিহীন ভার্চুয়াল আদালত অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফলতার মুখ দেখছে না। ঐতিহ্যবাহী বিচারব্যবস্থা চলমান ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থার কারণে ভেঙে পড়েছে। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদালত খুলে দেওয়া প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত এই আইন জাতীয় সংসদে পাস না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’-এর খসড়া অনুমোদন লাভের পর ৯ মে এ সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ছুটি গত ৩০ মে শেষ হলেও উচ্চ ও অধস্তন আদালতে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশনায় জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল আদালতে মামলার শুনানি চলবে। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করতে গত ২৩ জুন জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এ সংক্রান্ত বিলটি সংসদে তোলেন। পরে বিলটি পাঁচ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে অধ্যাদেশ জারির পর নিয়ম অনুযায়ী তা গত ১০ জুন সংসদে তোলা হয়। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করতে হলে চলমান অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে অনুমোদন করাতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত