পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের সব উদ্যোক্তা শেয়ার কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার। গত বৃহস্পতিবার জিএসকে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সেটফার্স্ট লিমিটেড ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার বিক্রির ঘোষণার পর গতকাল তা কিনে নেয় ইউনিলিভার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে জিএসকে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা শেয়ার কিনতে ২ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বিভি। এ-সংক্রান্ত চুক্তির দেড় বছর পর শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জিএসকে বাংলাদেশের মালিকানায় আসছে ইউনিলিভার।
এ বিষয়ে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসুদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শেয়ারের হাতবদল সম্পন্ন হয়েছে। এখন পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিলিভারের মূল কোম্পানি ইউনিলিভার এনভি জিএসকের শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়। তবে চলতি বছরের ২২ মার্চ এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইউনিলিভারের মূল কোম্পানির পরিবর্তে সহায়ক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বিভির কাছে সেটফার্স্টের সব শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে এখন ব্লক মার্কেট থেকে জিএসকে শেয়ার ইউনিলিভারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওভারসিজ হোল্ডিংস বিভির অনুকূলে কেনা হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সিটি ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে জিএসকের ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার কিনে নেয় ইউনিলিভার। ডিএসইর মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে এই শেয়ার বিক্রি শুরু করে সেটফার্স্ট লিমিটেড। নিয়ম অনুযায়ী শেষ কার্যদিবসের লেনদেনের সমাপনি মূল্য অনুযায়ী কিনে নিতে হয়। সেই হিসাবে গতকাল প্রতি শেয়ার ২ হাজার ৪৬ টাকা ৩০ পয়সায় সেটফার্স্টের ধারণ করা সব শেয়ার কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার। এ জন্য ইউনিলিভারকে ২ হাজার ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৭ হাজার ১৬৭ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
২০১৮ সালে ইউনিলিভারের কাছে বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার ২০টি দেশের হেলথ ও ফুড ড্রিংকের ব্যবসা ৩১০ কোটি পাউন্ডে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় জিএসকে। এর মধ্যে শুধু ভারতের জিএসকে কিনতে ইউনিলিভারকে গুনতে হবে ২৪০ কোটি পাউন্ড বা ২৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। সেখানে কোম্পানি দুটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় হিন্দুস্থান ইউনিলিভারের সঙ্গে জিএসকে একীভূত হবে। এরই অংশ হিসেবে জিএসকে বাংলাদেশের সব শেয়ার অধিগ্রহণ করল ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস।
ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যালস জায়ান্ট গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন পিএলসির একটি সহায়ক সংস্থা জিএসকে বাংলাদেশ। ১৯৭৬ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয় এটি। জিএসকে বাংলাদেশে কনজ্যুমার হেলথকেয়ার ও ফার্মাসিউটিক্যালস দুই ইউনিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তবে ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটের লোকসানের কারণে ওষুধ উৎপাদন কারখানা এবং ফার্মাসিউটিক্যালস বিজনেস ইউনিটের সব কার্যক্রম একপর্যায়ে বন্ধ করে দেয় গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন।
জিএসকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্য হচ্ছে হরলিকস। কোম্পানিটির মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে হরলিকস থেকে। ইউনিলিভারের অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে জিএসকে বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন হতে পারে। হরলিকসসহ অন্যান্য পণ্য বাজারে আগের মতোই পাওয়া যাবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিলিভার কর্তৃক অধিগ্রহণের ঘোষণার পর থেকেই জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ার দর বাড়তে দেখা গেছে। গতকালও শেয়ারটির দর বেড়ে ২ হাজার ৮৪ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়। মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তির পর থেকে গতকাল পর্যন্ত শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ। চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৯৭ পয়সা। এই কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০১৯ সালের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিয়েছে জিএসকের পরিচালনা পর্ষদ। পাঁচ বছর ধরেই কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ৫০০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।
