ছেলেকে বুকে জড়িয়েই তলিয়ে গেলেন মা

আপডেট : ৩০ জুন ২০২০, ০৬:৩০ এএম

রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপোলো হাসপাতাল) ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পাড়াগাঁও গ্রাম থেকে ঢাকা আসছিলেন মারফি আক্তার (২৮), সঙ্গে ছিল ২ বছরের ছোট্ট ছেলে তালহা ও ভগ্নিপতি মো. আলম (৪০)। কিন্তু সদরঘাটে পৌঁছানের আগেই শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে চাঁদপুর থেকে আসা ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মারফিকে বহনকারী মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি। দুর্ঘটনার পর মারফির লাশটি যখন উদ্ধার করা হয় তখনো সন্তান তালহা মায়ের বুকে জড়ানো অবস্থাতেই ছিল। তাদের সঙ্গে থাকা মো. আলমের লাশও উদ্ধার হয়েছে। নিহত মারফির ভাগিনা মো. মিলন দেশ রূপান্তরকে জানান, তার মামা-মামী লৌহজংয়ের পাড়াগাঁও এলাকায় বসবাস করেন। মামা মো. বেলায়েত (৩৮) গ্রামের মুদি দোকানি। ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে অনেকদিন ধরেই তার মামীকে ডাক্তার দেখানোর কথা। কিন্তু নানান ব্যস্ততার কারণে আসতে পারছিল না। গত রবিবার রাত থেকে হঠাৎ মারফির বুকের ব্যথা বেড়ে যায়। বেলায়েত ব্যস্ততার কারণে আসতে না পারায় বড় বোনের স্বামী মো. আলমের (৪০) সঙ্গে ছোট ছেলে তালহাকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন মারফি। গতকাল সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে মর্নিং বার্ড লঞ্চে ঢাকার সদরঘাট আসছিলেন তারা। সদরঘাটের কাছাকাছি ফরাশগঞ্জ এলাকায় আসতেই পেছন থেকে এমভি ময়ূরী-২ সজোরে ধাক্কা দেয় মনিং বার্ড লঞ্চটিকে। এ সময় ছেলেকে বুকি জড়িয়ে ধরে পানির নিচে তলিয়ে যান মারফি। দুর্ঘটনার পর হাতেগোনা কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রী তলিয়ে যান।

এদিকে টেলিভিশনে লঞ্চ দুর্ঘটনার খবর দেখে মারফির পরিবারের সদস্যরা দ্রুতই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বেলা ১২টার দিকে মারফির লাশ উদ্ধার করে ডুবুরিরা। মৃত্যুর আগে ছোট্ট শিশু তালহাকে দুহাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন মারফি। ওই অবস্থাতেই তাদের লাশ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। তাদের ধারণা, হয়তো শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে নিজে বাঁচার চেষ্টা করলে বাঁচতেও পারতেন মা মারফি। তার লাশ উদ্ধারের কিছুক্ষণ পরই বোন জামাই আলমের লাশ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। উদ্ধারের পর তাদের তিনজনের মরদেহ পাঠিয়ে দেওয়া হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। সেখান থেকে লাশ বুঝে নিয়ে লৌহজং পাড়াগাঁও গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত