করোনা ‘প্রতিরোধক’ চাউর আর্সেনিকাম অ্যালবাম কেনার হিড়িক

আপডেট : ৩০ জুন ২০২০, ০৬:৩৭ এএম

মহামারী করোনাভাইরাসের কার্যকরী ওষুধ কিংবা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে আর্সেনিকাম অ্যালবাম-৩০ নামে একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ ভাইরাসটি প্রতিরোধে কার্যকরী এমন খবর চাউর হয়েছে। এরপর থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এটি কেনার হিড়িক পড়েছে। বাড়তি দাম দিয়েও নিতে লোকজন হোমিও ফার্মেসিগুলোতে ভিড় করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে আর্সেনিকাম অ্যালবাম-৩০ ওষুধটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে বাংলাদেশেও তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ক্রেতারা একাধিক ফাইল সংগ্রহ করে রাখছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরের হোমিও ওষুধের সবচেয়ে বড় বাজার লালদীঘির পুরাতন গির্জা এলাকায় সেন্ট্রাল হোমিও, এসএ হোমিও, ন্যাশনাল হোমিওসহ কয়েকটি ফার্মেসিতে আর্সেনিকাম অ্যালবাম-৩০ নিতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ে। তারা ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে প্রতি ফাইল ওষুধ কিনছেন।

আনিকা সুলতানা জানান, লোকমুখে করোনা প্রতিরোধে ওষুধটির কার্যকারিতা এবং ইউটিউবে ভারতে সফলতার তথ্য পেয়ে তিনি কিনতে এসেছেন। প্রতিবেশীরা এটি খেয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউই এখনো আক্রান্ত হয়নি। এজন্য পরিবারের জন্য পাঁচ ফাইল নেন আনিকা। হালিশহর থেকে আসা আনিসুর রহমান জানান, ১০০ টাকা করে ফাইল কিনে আগে খেয়েছেন। এখন পর্যন্ত পরিবারের সবাই ভালো আছে। কার্যকরী বিশ্বাসেই এবার ২০০ টাকা বেশি দিয়ে কয়েক ফাইল নিলেন তিনি।

এ বিষয়ে সেন্ট্রাল হোমিও ফার্মেসির মালিক ডা. অমরেশ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের মাসখানেক পর থেকে আর্সেনিকাম অ্যালবাম-৩০-এর চাহিদা বেড়ে গেছে। অনেকে ৫-১০ ফাইল নিচ্ছেন। গত এক মাসে তিন-চার দফায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন প্রায় ২০ হাজার ফাইল কিনেছে। তরল শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বড়ি বিক্রি করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তদের জন্য এই ওষুধ নয়। সুস্থরা খেতে পারবেন, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। এটি ছাড়াও বর্তমানে ব্রাউনিয়া অ্যালবাম-৩০, জেলস-৩০, এনটিম টার্ট, ফসফরাচ, হিপারসাল, ইপিকাক, কাম্ফর হোমিওপ্যাথি ওষুধের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত