ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর মূল বাজারে লেনদেন শুরুর তারিখ নির্ধারণ হয়েছে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের কোম্পানি সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জুলাই মূল মার্কেটে এই কোম্পানির লেনদেন শুরু হবে। গতকাল ডিএসই এ তথ্য জানিয়েছে।
মূল মার্কেটে লেনদেনের ক্ষেত্রে সোনালি পেপারের শেয়ারের ওপর কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানিটির রেফারেন্স ও ফ্লোর প্রাইস হবে ওটিসি মার্কেটের সর্বশেষ ক্লোজিং প্রাইস। ওটিসিতে সোনালি পেপারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছিল চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি। সেদিন কোম্পানিটির ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৭৩ টাকা। এ হিসেবে ২৭৩ টাকা হবে কোম্পানির প্রারম্ভিক ও ফ্লোর প্রাইস। কোম্পানির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার এবং সার্কিট ফিল্টার (প্রাইস লিমিট) ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম কার্যদিবস থেকেই কার্যকর হবে। এ ছাড়া ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে এবং পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) পর্যন্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেই কোম্পানিটির লেনদেন হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সম্মতির প্রায় আট মাস পর ডিএসইর মূল বাজারে পুনঃ তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড। এসইসির সম্মতির পর ৪ জুন ডিএসইর পর্ষদ সভায় মূল বাজারে পুনঃ তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়ে কোম্পানিটির লেনদেনের তারিখ ধার্য করতে ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোনালি পেপারের লেনদেনের তারিখ নির্ধারণ করল ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফলে তালিকাচ্যুত হওয়ার ১০ বছরের বেশি সময় পর মূল বাজারের লেনদেনব্যবস্থায় ফিরতে যাচ্ছে ওটিসির কোম্পানি সোনালি পেপার।
এর আগে ওয়াটার কেমিক্যাল ও আলিফ টেক্সটাইল ওটিসি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে পুনঃ তালিকাভুক্ত হয়। পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে গত বছর ওটিসির যেসব কোম্পানি ধারাবাহিক মুনাফা ও লভ্যাংশ দিচ্ছে, তাদের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে পুনঃ তালিকাভুক্তির শর্ত শিথিল করে এসইসি। কমিশন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি যে কারণে তালিকাচ্যুত হয়েছিল, এখন সেসব সমাধান করেই মূল বাজারে ফিরতে পারবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জন্য পাবলিক ইস্যু বিধিমালা ও স্টক এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোনালি পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসকে দুটি সিকিউরিটিজ আইন ও স্টক এক্সচেঞ্জেস লিস্টিং রেগুলেশনের পাঁচটি ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে পুনঃ তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় এসইসি।
কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ, ধারাবাহিক লোকসান, নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান ও এজিএম (বার্ষিক সাধারণ সভা) না করা,
থাকা, কাগুজে শেয়ার ইলেকট্রনিকে রূপান্তর না করাসহ বিভিন্ন কারণে ২০০৯ ও ১০ সালে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজার থেকে ৭২টি কোম্পানি তালিকাচ্যুত করে ওটিসিতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি মূল বাজারে ফেরত এসেছে। বর্তমানে ওটিসিতে ৬৫টি কোম্পানি রয়েছে।
ওটিসির বাজারে স্বল্প মূলধনি কোম্পানি সোনালি পেপারের শেয়ার ইতিমধ্যেই অতি মূল্যায়িত হয়ে আছে। স্বল্প মূলধনির এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ওটিসিতে সর্বশেষ ২৭৩ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।
সোনালি পেপার মিলসের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তাদের শেয়ার রয়েছে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
মূল বাজারে ফিরতে সোনালি পেপার মিলসকে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা থাকার বাধ্যবাধকতা, সর্বশেষ তিন হিসাববছরে পরিচালন কার্যক্রমে নিট তারল্য প্রবাহে ধনাত্মক থাকা ও পরিচালকদের ডিউ ডিলিজেন্স সার্টিফিকেট, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের পৃথক নিঃশর্ত অঙ্গীকারনামা প্রদান থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এসইসি। শিডিউলে অধীন এনেক্সার ১০ ও এনেক্সার ১২তে ফরম্যাট অব ডিক্লারেশনে পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শর্ত থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানির ইনফরমেশন ডকুমেন্ট প্রকাশে ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগের বাধ্যবাধকতা থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শেয়ার নিষ্পত্তি বিষয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনের ১২ ও ১৩ ধারায় থাকা বিভিন্ন শর্ত থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোনালি পেপার ১৯৭৭ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে এবং ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ইউনুস গ্রুপ ২০০৬ সালে কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করে। সোনালি পেপার প্রিন্টিং পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজ উৎপাদন করে। বছরে ৩৫ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কোম্পানিটির। কাগজের বাজারে বসুন্ধরা পেপার মিলস, হাক্কানি পেপার অ্যান্ড পাল্প, মাগুরা পেপার মিলস ও কর্ণফুলী পেপার মিলস কোম্পানিটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
