ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মাসে চিকিৎকদের খাবার বিল ২০ কোটি টাকা- ফেইসবুক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া খবরকে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন হাসপাতালটির পরিচালক।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মলন আয়োজন করে এসব বলেন তিনি।
ঢামেক পরিচালক গত দুই মাসে চিকিৎসক, নার্সসহ করোনা ইউনিটে কাজ করা সব কর্মচারীর হোটেলে থাকা, খাওয়া হাসপাতালে যাতায়াতের সব সম্ভাব্য খরচ তুলে ধরেন।
তবে এ পর্যন্ত মাসে কতটাকা ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, করোনা ইউনিট খোলার আগে আইসোলেশন ওয়ার্ডের জন্য ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল আমাদের হাসপাতালে। করোনা ইউনিট চালু করার পর জুনের প্রথম দিকে আমরা একটা সম্ভাব্য বাজেট দিয়েছিলাম ২৬ কোটি। সেখান থেকে ২০কোটি টাকা অনুমোদন হয়।
তিনি জানান, করোনা ইউনিটে কাজ করা সব চিকিৎসক, নার্স, স্টাফদের জন্য ৩০টি হোটেল ভাড়া নেয়া হয় এবং হোটেলের সব বিষয় তদারকির জন্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলমকে প্রধান করে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। কমিটির বাকি তিনজন হলেন অধ্যাপক ডা. মো. মোজাফ্ফর হোসেন, সদস্য সচিব উপপরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ ও সদস্য ডা. আশরাফুন নাহার।
পরিচালক জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতের জন্য ১৩টি মাইক্রোবাস, ১টি মিনিবাস, ২টি বড় বাস ভাড়া নেয়া হয়। এই ৩০টি হোটেলে থাকা, খাওয়া ও হাসপাতালে যাতায়াতের খরচ হিসেবেই ওই ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি আমরা। এখানে কোনো টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অধ্যাপক ডা. বিল্লাল আলম বলেন, আমরা এমন ডাক্তার নই যে একটি কলা ১ হাজার টাকা দিয়ে কিনে খাব। এ সব কথা যেখানে বলা হয়েছে, আমার মনে হয়ে এর কোনো ভিত্তি নাই। এতে চিকিৎসক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। অবশ্যই এর তদন্ত হওয়ার দরকার ছিল। আমরা তো ইচ্ছা করে হোটেলে থাকতে চাই না। যদি সুযোগ থাকত হোম আইসোলেশনে থাকার বা হাসপাতালে থাকার তাহলে সেটাই করতাম। কাল্পনিকভাবে ওই গুজব ফেসবুক ও যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালটির পরিচালক বলেন, আমাদের হাসপাতালে দু'মাসের সব খরচ চুক্তিপত্রে রয়েছে। সেটি আমরা মন্ত্রণালয়সহ কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. বিল্লাল আলম, অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, উপপরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ ও সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফুন নাহারসহ অনেকেই।
