মস্তিষ্কের সঠিক কর্মক্ষমতার জন্য গ্লুকোজের সরবরাহ ঠিক থাকা অপরিহার্য। কিন্তু রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে মস্তিষ্কেও এর সরবরাহ কমে যায়। ফলে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। রক্তে গ্লুকোজ অতিমাত্রায় কমে গেলে জ্ঞান হারানো থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। রক্তে সুগার বা গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীরাই হাইপোগ্লাইসেমিয়াতে বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন ব্যবহার করে থাকেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। সুগার কমে যাওয়ার প্রথম লক্ষণ হলো খারাপ লাগতে শুরু করবে। হয়তো অলসবোধ হবে, একটু ঘাম হবে। আর সুগার যদি বেশি কমতে থাকে, তখন ঘাম হবে। ত্বকটা একটু সাদা হয়ে যাবে। অনেক সময় সুগার এত কমে যায় যে, রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। তবে তার আগে হয়তো কথা বলতে একটু জড়তা আসবে। সেটা বুঝতে হবে। যখনই একটু অস্থিরতা দেখা দেবে, কপাল একটু ঘামছে কিংবা তার মাথাব্যথা হচ্ছে, তাকে একটু অন্য রকম লাগছে, কিংবা একটু ঝিমিয়ে পড়ছে, তখনই সবাইকে জানতে হবে যে সুগারটা কমে গেলে কী করতে হবে। যদি সম্ভব হয় সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়ানো। আরেকটি হলো, যারা ইনসুলিন নেন, তাদের কাছে একটি গ্লুকাগন ট্যাবলেট থাকতে পারে। ট্যাবলেট মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিলে সুগা বাড়ে। তখন রোগী একটু কথা বলতে শুরু করে।
কারণ
ইনসুলিন নেওয়ার পর খেতে ভুলে যাওয়া।
অপরিমিত খাবার খাওয়া।
দেরিতে খাবার গ্রহণ।
অতিরিক্ত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করা।
মাত্রাতিরিক্ত ইনসুলিন ব্যবহার।
অতিমাত্রায় ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য দায়ী
লক্ষণ
শরীর ঘামতে থাকা।
গায়ে কাঁপুনি ধরা।
ক্ষুধা অনুভব করা।
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া।
ক্লান্তি অনুভব করা।
কথা বলতে কষ্ট হওয়া।
ঝিমুনি ভাব অনুভূত হওয়া।
মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব হওয়া।
সুগারের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলে জ্ঞান হারানো।
করণীয়
দ্রুত রোগীকে গ্লুকোজ বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাইয়ে দিতে হবে।
মিষ্টি কিছু পাওয়া না গেলে পানিতে চিনি গুলে খাওয়াতে হবে।
যত দ্রুত সম্ভব রক্তের সুগার বা গ্লুকোজের পরিমাণ মাপতে হবে।
৩০ মিনিটের মধ্যে রোগী স্বাভাবিক না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
মুখে খাওয়ানো সম্ভব না হলে কিংবা রোগী জ্ঞান হারালে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিরোধের উপায়
নিয়মিত রক্তের সুগার বা গ্লুকোজ মাপতে হবে।
ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের সব সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার (যেমন : চকলেট, লজেন্স ও বিস্কুট) সঙ্গে রাখতে হবে।
ব্যায়াম করার সময় গ্লুকোজ মেশানো পানির বোতল সঙ্গে রাখতে হবে।
ভ্রমণের সময় সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় খাবার, গ্লুকোজ মেশানো পানি ও গ্লুকোমিটার রাখতে হবে।
বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়াতে আক্রান্ত হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
