২০১৩ সালের মে মাসে বড় একটি ঢেউ আছড়ে পড়লে নিমেষেই ডুবে যায় জ্যাকসন-৪ নামে একটি জাহাজ। আটলান্টিক মহাসাগরে ১০০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া সেই জাহাজ থেকে ঘটনার ৬২ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয় হ্যারিসন ওকানে নামে এক নাইজেরিয়ানকে। রুদ্ধশ্বাস সেই ঘটনা নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে
২০১৩ সালে জ্যাকসন-৪ নামে ছোট্ট একটি জাহাজ আটলান্টিক মহাসাগরে নাইজেরিয়ার উপকূল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে জাহাজটি একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই সাগরের পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় তিন দিন পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয় ডুবুরিদের একটি দল। জাহাজে থাকা ১২ জনের মধ্যে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি হিসেবে হ্যারিসন ওকানে নামে এক নাইজেরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। সেই সময়টিতে ওকানে ছিলেন ২৯ বছরের তরতাজা যুবক। জ্যাকসন-৪ জাহাজে তিনি রান্নাবান্নার কাজ করতেন।
তাৎক্ষণিকভাবে ওকানের অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার ঘটনাটি অনেকেই জানতেন না। ঘটনাটি ঘটার সাত মাস পর তা গণমাধ্যমের দৃষ্টিগোচর হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ওকানের উদ্ধার অভিযান নিয়ে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে আপলোড করা হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েট প্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অলৌকিক সেই মুহূর্তের বর্ণনা দেন ওকানে। পানির নিচে আটকে থাকার ঘটনাটি তখনো দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করত তাকে। জীবনে আর কখনো সমুদ্রে যাবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। নতুন জীবন পেয়ে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে রান্নাবান্নার পুরনো পেশাটিকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
মিলিয়ে গেল আলোর রেখাটি
পানির তলদেশে প্রায় ১০০ ফুট গভীরে ডুবেছিল জাহাজটি। জাহাজের ভেতরে একটি পানিশূন্য ফাঁকা জায়গার মধ্যে আটকে থাকা ওকানে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে পেয়েছিলেন এক বোতল কোকাকোলা। দুটি ফ্ল্যাশলাইট পেলেও মোটামুটি এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যেই এগুলোর ব্যাটারি ক্ষয় হয়ে যায়। নিকষ কালো অন্ধকারে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছিলেন তিনি। প্রার্থনা করছিলেন যেন অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান। কিন্তু বেঁচে যাওয়ার কোনাে আশাই যখন আর ছিল না, ঠিক তখনই অন্য একটি নৌকা আশপাশে নোঙর করার শব্দ বুঝতে পারেন তিনি। শুনতে পান ভারী কোনো বস্তু দিয়ে ডুবন্ত জাহাজটি আঘাত করছে কেউ। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি একটি আলোর রেখাও দেখতে পান। পানিতে বুদ্বুদ দেখে বুঝতে তিনি বুঝতে পারেন কেউ হয়তো নৌকাটি উদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন।
অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওকানে জানান, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ডুবুরিদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে। কিন্তু নাবিকরা জাহাজের যে দিকটিতে অবস্থান করছিলে, ওকানে ছিলেন তার বিপরীত দিকে। ওকানে ভাবছিলেন শিগগিরই তাকে উদ্ধার করা হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই আলোর রেখাটি মিলিয়ে গেল। এমন পরিস্থিতিতে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা ওকানে যেদিকে আলোর রেখাটি দেখা গিয়েছিল, সেদিকে ডুব দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলেন ডুবুরিদের নিজের অবস্থান জানানোর জন্য। কিন্তু অন্ধকার পানির মধ্যে তাদের আর হদিস পাওয়া গেল না। তাই প্রাণে বাঁচার জন্য আবার নিজের পানিশূন্য ফাঁকা জায়গাটিতে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু বাতাসে অক্সিজেন কমে আসায় সেই জায়গাটিতেও আর বেশিক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব ছিল না।
সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে ওকানে বলেন, ‘ডুবুরিটি খুব দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। তার লাইটের আলোটি দেখতে পেয়ে আমি যখন তাকে ধরতে যাব, তার আগেই তিনি ওই স্থান থেকে মিলিয়ে যান। পিচের মতো কালো অন্ধকারে আমি তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তাকে আর পাওয়া গেল না। আমি আবার আমার স্থানে ফিরে গেলাম।’
আবার আশার আলো
উদ্ধারকারী ডুবুরি দলটি ছিল একটি ডাচ কোম্পানির। তবে, ডুবুরিরা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। ডুবে থাকা জ্যাকসন-৪ জাহাজটিতে তারা শুধু মৃতদেহগুলো খুঁজে দেখছিল। ওকানের কাছে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তারা চারটি মৃতদেহ খুঁজেও পেয়েছিল। ঘটনার তিন দিন পর ডুবন্ত সেই জাহাজে কেউ জীবিত থাকতে পারে, তা দলটির কল্পনাতেও ছিল না।
এদিকে, আলোর রেখাটি মিলিয়ে যাওয়ার পর ডুবুরির কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে যান ওকানে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার আলোর রেখাটি দেখা গেল। ওকানে আবার ডুব দিয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলেন। ডুবুরিটি তাকে তখনো দেখতে পাননি। নিজের অস্তিত্বকে জানান দেওয়ার জন্য ওই ডুবুরির ঘাড়ে স্পর্শ করলেন ওকানে। ডুবুরিটি ভয় পেয়ে তৎক্ষণাৎ ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন।
ওকানের হাতটি দেখার পর ডুবুরিটি তার মাইক্রোফোনে নিজেদের জাহাজে সংকেত পাঠালেন এই বলে, ‘আরেকটি মৃতদেহ, মৃতদেহ, মৃতদেহ...’।
ওকানে বলেন, ‘ডুবুরিটি যখন আমার দিকে তার হাতটি বাড়িয়ে দিলেন, তখন আমি তার হাতটি টেনে ধরলাম।’ বিস্ময়ে ডুবুরিটি সঙ্গে সঙ্গেই চিৎকার করে উঠলেন, ‘সে জীবিত, সে জীবিত, সে জীবিত...’।
ডুবুরিসহ পানিশূন্য জায়গাটিতে আবার ফিরে গেলেন ওকানে। তার কাছে সবকিছুই তখন অবাস্তব মনে হচ্ছে। সেই সময়টির বর্ণনা দিয়ে ওকানে বলেন, ‘আমার মনে আছে, ডুবুরিটি যখন আমাকে একটি পানির বোতল দিলেন, তখন তিনি আমার দিকে বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে ছিলেন। আর বোঝার চেষ্টা করছিলেন আমি কোনো মানুষ, নাকি অন্য কিছু। কারণ তিনি তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।’
ওকানেকে পানির বোতল দেওয়ার পর তাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন ডুবুরিটি। ডুবে যাওয়ার প্রায় ৬২ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে পানির ওপর থাকা ডুবুরিদের জাহাজে নিয়ে আসা হয়।
ডুবে যাওয়ার মুহূর্ত
উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত ওকানে ভেবেছিলেন, জাহাজে থাকা তার বাকি সঙ্গীদের কেউ কেউ হয়তো জীবন নিয়ে পালাতে পেরেছেন। আটলান্টিক সাগরে নাইজেরিয়ার তেলসমৃদ্ধ জলভাগে মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনের একটি ট্যাংকার জাহাজের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে জ্যাকসন-৪ নামে ডুবে যাওয়া জাহাজটি। কিন্তু ২০১৩ সালের ২৬ মে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড় একটি ঢেউয়ের আঘাতে হঠাৎ করেই জাহাজটি উপুড় হয়ে ডুবে যায়। এ সময়টিতে জাহাজে থাকা সবাই নিজ নিজ কেবিনের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। বিপদসংকুল ওই এলাকাটিতে রাতের বেলায় জলদস্যুদের ভয়ে সাধারণত কেবিনের দরজা-জানালা বন্ধ করেই ঘুম কিংবা বিশ্রাম নেন নাবিকরা।
ডুবে যাওয়ার সময়টির কথা স্মরণ করে ওকানে বলেন, ‘জাহাজে থাকা অন্যদের চিৎকার আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম জাহাজটি ডুবে যাচ্ছে। আমি শুনেছিলাম একজন চিৎকার করে বলছেন, জাহাজটা ডুবে যাচ্ছে না-কি!’
ডুবে যাওয়ার সময় নিজের কেবিনের বাথরুমে অবস্থান করছিলেন ওকানে। সেখানে বসেই তিনি জাহাজে থাকা অন্যদের বাঁচার জন্য আকুতি শুনতে পাচ্ছিলেন। ওকানে বলেন, ‘তারা এও বলছিলেন যে, ঈশ্বর আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও...।’
উদ্ধারকারী দলটি ওকানেকে জীবিত উদ্ধারের পাশাপাশি আরও ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল। জাহাজে থাকা বাকি একজনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ডুবে যাওয়ার ক্ষণটিতে পানির ওপরে ভেসে থাকা যাবে এই ভেবে নিজের কেবিনের একটি ম্যাট্রেস আগলে ধরে ইঞ্জিনিয়ারের কেবিনের দিকে হুড়মুড় করে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়টির বর্ণনা দিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওকানে বলেছিলেন, ‘সবকিছু নিমেষেই অন্ধকার হয়ে গেল। ভেবেছিলাম এটাই বুঝি শেষ!’
ওকানে আরও জানান, ডুবে যাওয়ার পর প্রথম দুদিন তিনি কেবল তার ঈশ্বরকেই ডেকেছেন। কিন্তু তৃতীয় দিনে গিয়ে ঈশ্বরকে ডাকাডাকি বন্ধ করে তিনি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই সময়টিতে মা আর স্ত্রীর কথা মনে পড়ছিল খুব। কিছুদিন আগেই তিনি বিয়ে করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন মৃত্যু অনিবার্য।
পানিশূন্য একটি ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করে অন্ধকারের মধ্যেই আশপাশে সহকর্মীদের মৃতদেহের অস্তিত্ব টের পাচ্ছিলেন ওকানে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, দু-একটি হাঙর মাছ ওইসব মৃতদেহ থেকে খুবলে খুবলে মাংস খাচ্ছে। লবণাক্ত পানিতে থাকার জন্য ওকানের শরীরের চামড়া বিবর্ণ হতে শুরু করে। ২৬ মে দক্ষিণ আফ্রিকান ডুবুরিরা যখন ওকানেকে জীবিত উদ্ধার করেন, তখন তারা সত্যিই অবাক হয়ে যান। উদ্ধারকারী দলটির সদস্য পল ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমাদের জাহাজে থাকা কেউই ঘটনাটি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’
বেঁচে ফেরার পর
অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার পর নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন ওকানে। অনেক নাইজেরিয়ান ভাবতেন, ওকানে হয়তো কালা জাদু করে বেঁচে এসেছেন। এমনকি তিনি যে এলাকায় বাস করেন সেই এলাকার একটি চার্চের যাজক তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, বেঁচে ফেরার জন্য তিনি কোনো কালা জাদু ব্যবহার করেছেন কি না। যাজকের সেই প্রশ্নের বিষয়ে ওকানে বলেন, ‘আমি এতটাই অবাক হয়েছিলাম যে, ভাবছিলাম ঈশ্বরের সেবা করা একজন ব্যক্তি কীভাবে এমন চিন্তা করতে পারেন।’
নিহত অন্য সহকর্মীদের পরিবার ক্ষেপে যেতে পারে, এই ভয়ে তিনি তাদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি। কারণ তারা যদি জিজ্ঞেস করে বসে, কেউ যেখানে বাঁচেনি, সেখানে তুমি কী করে বাঁচলে। নাইজেরিয়ানরা খুব ধর্মভীরু হলেও অতিপ্রাকৃতিক ব্যাপারগুলোতেও তারা বিশ্বাস করে। একা বেঁচে ফেরার ঘটনাটি ওকানের বিশ্বাসকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রার্থনায় বসে তিনি প্রায়ই তার ঈশ্বরকে প্রশ্ন করেন, ‘কেউ যেখানে বাঁচেনি, সেখানে আমাকে একা কেন বাঁচালে?’
২০১৩ সালের ডিসেম্বরেই ওকানের স্ত্রী আকপোভোনা জানিয়েছিলেন, ঘটনার সাত মাস পরও তার স্বামী প্রতিনিয়ত দুঃস্বপ্ন দেখেন। আকপোভোনা বলেন, ‘রাতে ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে সে এতটাই আঘাত পায় যে, তৎক্ষণাৎ জেগে উঠে আমাকে বলে দেখো, বিছানাটি কেমন ডুবে যাচ্ছে। আমরা এখন সমুদ্রে!’
ওকানে বলেন, সমুদ্রের তলদেশে ডুবে থাকা অবস্থায় ঈশ্বরের কাছে তিনি একটি শপথ করেছিলেন। ঈশ্বরের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি আমাকে রক্ষা করো, তবে এই সমুদ্রে আমি আর কখনোই ফিরে আসব না, কখনোই না।’
কীভাবে সম্ভব হলো
পানির ১০০ ফুট নিচ থেকে তিন দিন পরও বেঁচে ফেরার ঘটনাটি অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য। এ ক্ষেত্রে ওকানে ছিলেন বিরল সৌভাগ্যপ্রাপ্ত। ডুবে যাওয়ার মুহূর্তটিতে ওকানের পরনে ছিল একটি মাত্র হাফপ্যান্ট। আর পরিবেশ ছিল হিমশীতল ঠান্ডা। যে ফাঁকা জায়গাটিতে ওকানে অবস্থান নিয়েছিলেন, দৈর্ঘ্য-প্রস্থে তা ছিল বড়জোর চার ফুট। আর এই পরিমাণ ফাঁকা জায়গার বাতাসে যে পরিমাণ অক্সিজেন থাকে তা দিয়ে একজন ব্যক্তির পক্ষে এক দিন টিকে থাকাই অসম্ভব। তাহলে কী করে বেঁচে ফিরেছিলেন ওকানে!
প্রথমত, ফাঁকা জায়গাটির মধ্যেই এক বোতল কোকাকোলা খুঁজে পেয়েছিলেন ওকানে। আর একটি লাইফ জ্যাকেট পেয়েছিলেন, যার সঙ্গে ছিল ছোট্ট দুটি ফ্ল্যাশলাইট। এই দুটি জিনিস কিছু মাত্রায় হলেও ওকানের বেঁচে থাকার উপকরণ হিসেবে কাজে লেগেছে।
ওকানের অলৌকিক বেঁচে ফেরার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে ২০১৩ সালেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা ‘লাইভ সায়েন্স’। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুপূর্ণ যে স্থানটিতে ওকানে আটকে ছিলেন, সেখানে প্রচণ্ড চাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়েও চার গুণ বেশি বাতাস ছিল। ফলে অক্সিজেনের পরিমাণও ছিল চার গুণ বেশি। বাড়তি এই অক্সিজেন স্বাভাবিকের চেয়েও আরও বেশি সময় ওকানেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বিপদ ছিল কার্বন ডাই-অক্সাইড। কারণ নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়, তা মানব শরীরের জন্য বিষাক্ত। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁকা জায়গাটি বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এমনটি হয়নি। কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা জানান, কার্বন ডাই-অক্সাইড পানিতে মিশে যেতে পারে। বিভিন্ন সময়ে ফাঁকা জায়গাটির পানির অংশে ওকানের নড়াচড়ায় বেশ ভালো করেই কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নিয়েছে সমুদ্রের পানি।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে প্রচণ্ড শীতল পরিবেশে হাইপোথার্মিয়ার হাত থেকে কীভাবে বাঁচলেন ওকানে। যেখানে পানির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে হলে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই একজন ব্যক্তি অচেতন হয়ে যেতে পারে! এ ক্ষেত্রেও ভাগ্যই সহায়ক হয়েছিল ওকানের। কারণ তার কাছে ছিল একটি ম্যাট্রেস। পানির নিচে অবস্থান করা ৬২ ঘণ্টার মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই ওই ম্যাট্রেসটির ওপরে অবস্থান করেছিলেন ওকানে, যা তাকে পানির কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সহায়তা করেছিল। ফলে তীব্রমাত্রায় হাইপোথার্মিয়ায় ভোগতে হয়নি তাকে।
