সদরঘাটে তদন্ত কমিটির সাক্ষ্যগ্রহণ

লঞ্চডুবির বর্ণনা দিলেন বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ০৭:২৩ এএম

‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চের বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তদন্ত কমিটির কাছে লঞ্চডুবির ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির সদস্যরা। এদিকে এ ঘটনায় করা মামলার সাত আসামির মধ্যে গতকাল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। নৌপুলিশ জানিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর শ্যামবাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ‘মনিং বার্ড’ লঞ্চটি ডুবে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে ৩৪ লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) টার্মিনালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সভাকক্ষে গণসাক্ষ্য নেন। লঞ্চডুবির ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন এসে কমিটির কাছে বক্তব্য দেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে ডুবে যাওয়া লঞ্চটির বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তাদের একজন মুন্সীগঞ্জের মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি ঘাট থেকে প্রায় ১০০ জন যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ঘাটে (সদরঘাট) ভেড়ার জন্য সোজা চলছিল। তখন ময়ূর-২ নামে একটি লঞ্চ আড়াআড়িভাবে ঘোরানো হচ্ছিল। ওই সময় ময়ূর-২ লঞ্চের পেছনের অংশ ধাক্কা দেয় মনিং বার্ড লঞ্চটিকে। ধাক্কা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটা কাত হয়ে ডুবে যায়। লঞ্চটি তলিয়ে যেতে মাত্র ২০ থেকে ২২ সেকেণ্ড সময় লাগে। আমি কেবিনে ছিলাম। জানালার গ্লাস খুলে আমি বের হয়ে আসি। ভেতরে আমার আপন দুই মামা আফজাল শেখ ও বাচ্চু শেখ ছিলেন। তারা পানিতে ডুবে মারা যান।’ এ ঘটনার জন্য ময়ূর-২ লঞ্চের চালককে দায়ী করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সোমবার থেকেই আমরা তদন্তকাজ শুরু করেছি। প্রথমে আমরা দুর্ঘটনাস্থল ও পরে ময়ূর-২ লঞ্চ পরিদর্শন করেছি। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেছি। ময়ূর-২ লঞ্চের মাস্টার ও ইঞ্জিনচালকের সঙ্গে আমরা প্রথম দিন কথা বলেছি। এরপর থেকে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তৎপর আছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছি প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী যদি থাকে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা করার জন্য। এ ছাড়া বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার যারা আছে লঞ্চ মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ, শিপিং অধিদপ্তরসহ সব সংস্থার সঙ্গে কথা বলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

‘ময়ূর-২’ ও ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চের কাগজপত্র ঠিক আছে কি না এবং চালকদের সনদ ছিল কি না এ প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। নথিপত্র পর্যালোচনা না করে বিষয়টি বলতে পারব না।’

এদিকে ‘ময়ূর-২’ লঞ্চের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সি-হর্স করপোরেশনের মালিক মোসাদ্দেক হামিদ ছোয়াদসহ মামলার সাত আসামি আত্মগোপনে আছে। নৌপুলিশের এসপি (ঢাকা অঞ্চল) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এখন পর্যন্ত আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি। আশা করছি দ্রুতই গ্রেপ্তার করতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত