২০৩৬ পর্যন্ত পুতিন! করোনা ঢালে বাজিমাত

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ০৬:৪১ এএম

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে সহসাই ক্ষমতা ছাড়ছেন না এই আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার তৎপরতা শুরু করেন তিনি। কারণ এমন সময় তিনি এই তৎপরতা শুরু করেছেন যখন সবার নজর করোনাভাইরাসের দিকে। গদি পাকাপোক্ত করতে তিনি সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেন। সেই নিমিত্তে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ভোটে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রায় দিয়েছেন প্রায় ৭৮ শতাংশ নাগরিক। ফলে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত পুতিনই থাকছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

পুতিনের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাস হওয়া সংবিধান সংশোধনের ওপর সাত দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ গত বুধবার শেষ হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৭৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে এবং ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়ে বলা হচ্ছে, পুতিনের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে এই ‘অ্যাডহক ভোটে’ গণভোটের (কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের ভোটগ্রহণ) আইনি প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হয়নি। আর তাই এই ভোট নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে। তবে বিতর্ক করার মতো দেশে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দলকে পাওয়া যাচ্ছে না, যারা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার বিষয়টি নিয়ে অন্তত রাস্তায় নামবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় পুতিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন না পুতিন। তাই সংবিধান সংশোধনের এই উদ্যোগ। ভোটে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রায় আসায় তিনি আরও দুই মেয়াদে (৬ বছর করে) ২০৩৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।

পুতিন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে ২০২৪ সালের পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি। তবে তিনি বলেছেন, এই সুযোগ থাকা জরুরি। এই সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘অন্যথায় আমি জানি দুই বছরের মধ্যে রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়ে সবার চোখ সম্ভাব্য উত্তরসূরি খোঁজা শুরু করবে।’

পুতিনের আরও দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনে এই ভোট ছিল চূড়ান্ত পদক্ষেপ। রাশিয়ার পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম কোর্ট ছাড়াও দেশটির আঞ্চলিক আইন প্রণেতারা ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সমর্থন করেছেন। বিরোধীরা এই সংবিধান সংশোধনে ভোটের ফল নিয়ে রাজধানী মস্কোতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

ভোটাররা যাতে ভোটদানে উৎসাহী হন মস্কোর কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও আঞ্চলিক সরকারগুলো নগদ অর্থসহ নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসপত্র দিয়েছেন। এছাড়া ছিল র‌্যাফেল ড্র; তাতে পুরস্কার হিসেবে ছিল নগদ অর্থ এবং ফ্ল্যাটসহ আরও নানা কিছু। এদিকে দেশটির বড় কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের ভোট প্রদানের নির্দেশ দেয় বলেও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের নতুন প্রস্তাবে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত পুতিনের ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হওয়ার পাশাপাশি এতে দেশের শীর্ষ বিচারক ও প্রসিকিউটর মনোনীত করার সুযোগ পাবেন প্রেসিডেন্ট। তবে এই মনোনয়ন পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে অনুমোদিত হতে হবে। এছাড়া সমকামী বিয়ে নিষিদ্ধ রাখার মতো কিছু রক্ষণশীল বিষয়ও সংবিধানে যুক্ত হবে। অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্যে থাকবে সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রীয় পেনশন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত