দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা সরকারি হিসেবে দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭। গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গতকাল ১১৭তম দিন পার করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে গত ২ জুন ৮৭তম দিনে দেশে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়। তারপর গত ১৮ জুন ১০৩তম দিনে শনাক্ত ১ লাখ এবং গতকাল ২ জুলাই ১১৭তম দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াল। দেখা যাচ্ছে, গত ২ জুন থেকে গতকাল ২ জুলাই পর্যন্ত এক মাসেই দেশে ১ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রথম ৫০ হাজার রোগী শনাক্ত হতে যেখানে ৮৭ দিন সময় লেগেছে, সেখানে দ্বিতীয় ৫০ হাজার শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১৬ দিনে এবং তৃতীয় ৫০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে তার চেয়েও কম মাত্র ১৪ দিনে। অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে গত ২২ দিনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮ সহস্রাধিক নমুনা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা ৮ লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৭ জুন পরীক্ষা ৭ লাখ ছাড়ানোর পাঁচ দিনের মাথায় গতকাল তা ৮ লাখ ছাড়াল। গতকাল সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের দিনে দেশে আরও ৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে চার হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৭টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৬২টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৪ হাজার ১৯ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৪ জন।
এদিন নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রমে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ঢাকার বেসরকারি ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট ৭০টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। গতকাল সবগুলো পরীক্ষাগারেই পরীক্ষা হয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৮ লাখ ২ হাজার ৬৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ। এ পর্যন্ত মারা গেছেন মোট ১ হাজার ৯২৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৬ হাজার ৪৪২ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন ও মহিলা ৬ জন। সর্বোচ্চ ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এছাড়া ঢাকায় ১১ জন, খুলনা ও রাজশাহীতে ৫ জন করে, সিলেট ও বরিশালে ২ জন করে এবং রংপুর বিভাগে মারা গেছেন ১ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন এবং বাড়িতে ৫ জন। তাদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ২ জন, ৪১-৫০ বছরের ২ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৬ জন, ৬১-৭০ বছরের ৮ জন, ৭১-৮০ বছরের ৭ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ২ জন। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান এদিন উল্লেখ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ৮৩৪ জন মারা গেছেন ষাটোর্র্ধ্ব বয়সের। অন্যদের মধ্যে ৫১-৬০ বছরের মারা গেছেন ৫৬০ জন, ৪১-৫০ বছরের ২৮৫ জন, ৩১-৪০ বছরের ১৪৬ জন, ২১-৩০ বছরের ৬৭ জন, ১১-২০ বছরের ২২ জন এবং সর্বনিম্ন ১২ জন মারা গেছেন ০-১০ বছর বয়সের।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৯৬০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১৫ হাজার ৭৫৭ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ৮৯৪ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৬০৮ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৩টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
করোনার নমুনা পরীক্ষায় অধিদপ্তর তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বেড়েছে জানিয়ে এদিন ডা. নাসিমা সুলতানা গত চার মাসের পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত মার্চ মাসে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩ হাজার ৬৫টি, এপ্রিল মাসে ৬২ হাজার ৮২৬টি, মে মাসে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯টি এবং জুন মাসে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০টি। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের বেড ও আইসিইউর তথ্য জানতে হটলাইন : কভিড ডেডিকেটেড কোন হাসপাতালে কত বেড খালি আছে এবং আইসিইউ বেড খালি আছে কি-না এসব তথ্য জানতে চারটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে সরকার। নম্বরগুলো হলো ০১৩১৩৭৯১১৩০, ০১৩১৩৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ ও ০১৩১৩৭৯১১৪০। হাসপাতালগুলোতে কেউ করোনা রোগী ভর্তি করাতে চাইলে এ নম্বরগুলোতে ফোন করে বেড খালি আছে কি-না জানতে পারবেন। বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট ১৪ হাজার ৪৭৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ৪ হাজার ৬২৮ জন এবং মোট ৩৯২টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ২১০ জন। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫১৮ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৭৩৬ জন।
