গ্রামপুলিশের চাকরি জাতীয়করণের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না : হাইকোর্ট

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ০৭:০১ এএম

গ্রামপুলিশের মধ্যে দফাদারদের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৯তম গ্রেডে এবং মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশনাসংবলিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর এ রায় দিয়েছিল বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ রায়ের মধ্য দিয়ে সারা দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রামপুলিশ জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হন। 

হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের ৭০ প্রকার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিকটতম, সবচেয়ে আপন, বন্ধু ও আত্মীয়ের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে তারা নিয়োজিত। ঝড়-বৃষ্টি, বিপদ-আপদ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্য সবচেয়ে কাছে সরকারি কর্মচারীটি হলো দফাদার ও মহল্লাদার। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কাকে বলে এরা জানে না। সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েও  জনগণকে বেশি সেবা প্রদান করেন তারা। সহজ-সরল ও নিরহঙ্কারী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর প্রতীক এই দফাদার ও মহল্লাদার।’ হাইকোর্ট আরও বলে, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ মোতাবেক আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার ন্যায্য অধিকার, ন্যায্য প্রাপ্যতা, ন্যায্য প্রত্যাশা তথা আইনসম্মত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।’ রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল অনুসারে ২০১১ সালের ২ জুন থেকে দফাদার ও মহল্লাদারদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া অবসর ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকার গ্রামপুলিশ সদস্যদের যোগদানের তারিখ হতে এ ভাতা দেওয়ার দিন গণনা শুরু করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, ২০০৮ সালে গ্রামপুলিশদের জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ওই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৭ সালে ৩৫৫ জন গ্রামপুলিশ সদস্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ওই বছর ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে ২০০৮ সালের ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় আসে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ারেস-আল-হারুনী। ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, সারা দেশে ৪৬ হাজার ৮৮০ জন গ্রামপুলিশ রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত