রিজেন্ট এয়ারওয়েজ

ভারতের পাওনা পরিশোধের চূড়ান্ত নোটিস

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:০৭ এএম

বাংলাদেশের বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে পাওনা পরিশোধের জন্য চূড়ান্ত নোটিস দিয়েছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের বিভিন্ন চার্জ বকেয়া পড়ায় এ নোটিস পেয়েছে সংস্থাটি। সময়মতো টাকা পরিশোধ না করায় ভারত রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা নগদায়ন করার কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এইচ জি এভিয়েশন। 

একটি দেশে এয়ারক্রাফট ওঠানামা করতে হলে সেই দেশের এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট হরে এয়ারক্রাফট ল্যান্ডিং, পার্কিং এবং ওভারফ্লাইয়িংসহ বিভিন্ন চার্জ পরিশোধ করতে হয়।  সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের  ফলে এসব খাতে রিজেন্টের ৬ কোটি ৭৭ লাখ রুপি বকেয়া পড়েছে। সময়মতো এসব ফি পরিশোধ না করায় জরিমানা বাবদ আরও ৩ কোটি ৪৬ লাখ রুপি বকেয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। মোট বকেয়ার পরিমাণ ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) গত ২২ জুলাই এইচ জি এভিয়েশন লিমিটেডের ডাইরেক্টর ফাইন্যান্সকে চিঠি দিয়েছে। বকেয়া পরিশোধের জন্য ওই চিঠিকেই চূড়ান্ত নোটিস হিসেবে গণ্য করার অনুরোধ করা হয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও এসব বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগ করেছে ভারত। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার ক্রেডিট পলিসি অনুযায়ী নিরাপত্তা অর্থের ৭৫ শতাংশ পার হলেই সমন্বয় করা হয়। রিজেন্টের নিরাপত্তা অর্থ ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

কয়েক বছর ধরেই টানাটানির মধ্যে চলছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। গত বছর ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সংস্থাটি আবারও নতুন উদ্যমে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু বৈশি^ক করোনাভাইরাসের কারণে সংস্থাটি আবারও নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ১০ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালে।

গত ২৬ জুন এইচ জি এভিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুফ হাবীব বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ে তারা এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সব পাওনা সময়মতো পরিশোধ করেছেন। চলতি বছরের প্রথম কোয়ার্টারের ১ কোটি ৫ লাখ টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। এই অবস্থায়ও ভারত ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা নগদায়ন করতে চায়। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে করোনাভাইরাসের জন্য সারা বিশে^র এভিয়েশন সেক্টর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মহামারীতে রেভিনিউ আয় শূন্যতে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় সময়মতো তাদের পক্ষে পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। গত ২৩ জুন রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ভারতকে অনুরোধ করেছে আরও কিছু দিন সময় দেওয়ার জন্য। কিন্তু ভারত তাতে সাড়া দেয়নি।

বেসরকারি এয়ারলাইনসের লেনদেনে জটিলতার সৃষ্টি হলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার আছে কি না জানতে চাইলে এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের বিমান চলাচল চুক্তির ১৩ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারায় এ ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। ১৯৭৮ সালের ৫ মে এ চুক্তি হয়। কিন্তু রিজেন্টের জন্য সরকার এ চেষ্টা করবে কি না, তা দেখার বিষয়। কয়েক বছর ধরেই এয়ারলাইনসটি আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সংকটে থাকায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজ গত বছরের আগস্ট থেকেই কর্মীদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে কভিড-১৯-এর সংক্রমণের মধ্যে গত মার্চ থেকে অন্যান্য এয়ারলাইনসের মতোই বন্ধ হয় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটও। আয় বন্ধ হওয়ায় মার্চ থেকেই অধিকাংশ কর্মীকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠিয়েছে এয়ারলাইনসটি। পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া থাকায় নিজেদের দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠি দিয়েছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২৮ জন পাইলট। চিঠিতে বলা হয়, ১০ মাস ধরেই নিয়মিত বেতন পরিশোধ করছে না রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও মার্চের শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন বৈমানিকরা। কিন্তু জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোনো বেতন না দিয়েই হঠাৎ করে সব কর্মীকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহে শুধু জানুয়ারির বেতন দেয় প্রতিষ্ঠানটি। আর গত ২৯ জুন সব বৈমানিককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের বিনা বেতনে ছুটিতে থাকতে হবে।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সাবেক সিইও এবং বর্তমানে সংস্থাটির উপদেষ্টা আশীষ রায় চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে যোগাযোগ করতে বলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত