পাটকল শ্রমিকদের পাওনার হিসাব কষতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০৫:৩৭ এএম

বন্ধ করে দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর প্রকৃত পাওনা হিসাব করতে ‘উচ্চপর্যায়ের’ কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে ৫ জুলাই। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনার হিসাব যাচাই-বাছাইকরণের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হলো। এ কমিটিতে সভাপতি ছাড়া আরও চারজন সদস্য থাকবেন। কমিটি ইচ্ছা করলে বা প্রয়োজন বোধ করলে নতুন কোনো সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ বিভাগের বাজেট-৪-এর যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন, অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মমিনুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপমহাহিসাবনিয়ন্ত্রক (রিজার্ভ) মো. সাইদুর রহমান সরকার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নূরউদ্দীন আল ফারুক।

কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। বলা হয়েছে, কমিটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের আলোকে অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমান স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা নির্ধারণ করবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একেক জন শ্রমিক-কর্মচারী আসলে কত টাকা পাবেন, তার হিসাব করা হয়নি। এ জন্য এ কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে তাদের পাওয়া পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকদের পাওনা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। এ জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিজেএমসির অধীনে থাকা ২৬টি পাটকলের মধ্যে মনোয়ার জুট মিল ছাড়া সব কটিই উৎপাদনে ছিল। এসব কারখানায় ২৪ হাজার ৮৬৬ স্থায়ী শ্রমিকের বাইরে তালিকাভুক্ত ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক প্রায় ২৬ হাজার। বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো লাভ দেখাতে পারলেও বিজেএমসির আওতাধীন মিলগুলো বছরের পর বছর লোকসান করে যাচ্ছিল, যার পেছনে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ৪৪ বছরের মধ্যে মাত্র চার বছর লাভ করেছে। ৪৮ বছরে এই খাতে সরকারকে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। প্রতি বছর শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ মেটাতে সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

গত ২৫ জুন পাটকল বন্ধসংক্রান্ত প্রস্তুতি সভা শেষে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেছিলেন, ‘আমরা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেব। আগে মিলগুলোকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা না বিক্রি করে জুট মিলই রাখব। ম্যানেজমেন্ট দেব যাতে লোক ছাঁটাই না হয়। এই শ্রমিকরা এখানেই চাকরি পাবেন, কারণ স্কিল্ড ওয়ার্কার ছাড়া মিল চালাতে দেওয়া হবে না। মিলগুলো বুঝে পাওয়ার পরে টেন্ডার হবে, যে বেশি দেয় তাকে দেওয়া হবে কিন্তু হি মাস্ট বি এ জুট মিল এক্সপার্ট। জুট মিল এক্সপার্ট না হলে সে কাজ করবে না। জমি নেওয়ার চেষ্টা করলে, সেটা আমরা দেব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত