পারিবারিক ব্যবসা দেখাশুনার পাশাপাশি নিজেও উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছে ছিল। তাই উচ্চশিক্ষা শেষ করে রাজধানীর দুই প্রান্তে গরুর দুটি খামার গড়ে তোলেন মো. মাসুদুল ইসলাম জিসান। ২০১৬ সালে পূর্বাচল ৩০০ ফিট বালুর ব্রিজ সংলগ্ন প্রায় দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন গরু পালন। এ খামার থেকে গত বছর রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটে সবচেয়ে বড় গরুটি বিক্রি করেন ৩৩ লাখ টাকায়। পূর্বাচলে দেওয়া খামারটি লাভজনক হওয়ায় ২০১৯ সালে মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রিজ এলাকায় চার বিঘা জমির ওপর আরেকটি গরুর খামার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। এই উদ্যোক্তা সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তার দুই খামারে। বর্তমানে সেখানে ৫৫ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করেন। আসছে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৬৫০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ৩৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকার গরু রয়েছে। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতা সমাগম ও দাম ঠিকমতো পাবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ডেইরিসান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুল ইসলাম জিসান।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোকে টার্গেট করে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধিত কমার্শিয়াল বিফ ফ্যাটেনিং ফার্ম বা গরু মোটাতাজাকরণ খামার আছে প্রায় দুইশ। এর বাইরে অনিবন্ধিত রয়েছে আরও অনেক। এ খামারগুলোতে একেকজনের ন্যূনতম দুই লাখ টাকা থেকে শুরু করে বিশ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ আছে। আমরা সারা বছরে এই একটা উপলক্ষকে (ঈদুল আজহা) উদ্দেশ্য করে গরু লালন করি।’
জিসান আরও বলেন, ‘এ বছর পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে খামারিদের চিন্তা তত বাড়ছে। ধারদেনা ও ব্যাংক লোন করে বিনিয়োগ করা খামারে লাভ না হোক অন্তত লোকসান যেন না হয়। গত বছর এই সময়েই ছোট-বড় মিলিয়ে বেশ কিছু গরু বিক্রি হয়েছিল। এ বছর করোনার জন্য মানুষের মধ্য থেকে খুব একটা সাড়া পাচ্ছি না। যদি কাক্সিক্ষত গরু বিক্রি না হয় তাহলে আমার খামারেই লোকসান হবে ৫/৬ কোটি টাকা। তবে আমাদের দাবি থাকবে, কৃষিপ্রধান এই দেশে সরকারের পক্ষ থেকে এই দুর্দিনে খামারিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে। তাহলে এ বৈশ্বিক দুর্যোগেও আমাদের কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছোট-বড় নানা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।’
করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির গরুর চাহিদা ও দাম কমার শঙ্কা শুধু এই খামারির না। দেশের বেশ কিছু খামারির সঙ্গে কথা বলে তাদের এমন আশঙ্কার কথা জানা গেছে। তারা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে এ বছর গরু পালনে তাদের খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু তৈরি হয়েছে বাজারে চাহিদা কমার আশঙ্কা। ইতিমধ্যে রাজধানীতে গত বছরের তুলনায় কোরবানির পশুর হাটের সংখ্যাও কমেছে। তাই তারা ইতিমধ্যে অনলাইনে নিজেদের খামারের গরুর দামসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও সাড়া নেই।
বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর কোরবানির জন্য দেশে এক কোটি ১৭ লাখ পশু ছিল। এর মধ্যে গরু ৪৫ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ৭১ লাখ। আর শুধু রাজশাহীতে গত বছর কোরবানির জন্য পশু লাগে ২ লাখ ৬০ হাজার। এ বছর প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে পৌনে চার লাখ গরু।
