দেশব্যাপী অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল চায় ২০ দল

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০৬:২১ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে দ্রুত সারা দেশে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব করেছে ২০-দলীয় জোট। গতকাল সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এর আগে গত রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অনলাইনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে দেশের প্রত্যেকটি শ্রমঘন এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কভিড-১৯ পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনে এবং পরবর্তীকালে সেগুলো সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানায় পরিচালনার জন্য ২০ দল প্রস্তাব করেছে। সমাজের অর্থবান ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। ২০ দল মনে করে এ ব্যাপারে সরকারকে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ও বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন রাষ্ট্র সহযোগিতা করতে পারে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা এবং সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপি-জনপ্রতিনিধি-জননেতা-ঊর্ধ্বতন আমলারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হতো।’

করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফি বাতিলের দাবি জানিয়ে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, ‘নেপালের মতো দেশও সরকারি খরচে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করছে। অথচ আমাদের দেশে সরকার ফি নির্ধারণ করেছে। তাই এই ফি প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে ২০-দলীয় জোট। এছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ এবং বিদেশ থেকে নিম্নমানের কিট, মাস্ক ও পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীতে দুর্নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ২০ দল।’

বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল আদায় ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিতের দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০-দলীয় জোটের সভায় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যথা বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল পরিশোধে বিপন্ন জনগণকে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।’

সংসদে পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ২০-দলীয় জোট প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিপিডিসহ আন্তর্জাতিক কিংবা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে যে বাজেট প্রণয়ন করা হলো তা দরিদ্র গণমানুষের কোনো কল্যাণ করবে না। ধনবান এবং ক্ষমতাসীনদের স্বার্থরক্ষার এ বাজেট ২০ দল প্রত্যাখ্যান করছে।’

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছে ২০ দল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের বিষয়ে ২০ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাটকল বন্ধ করার ফলে পাটচাষিরা যে অনিবার্য ক্ষতির সম্মুখীন হবেন সেই ক্ষতি পূরণে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে ২০ দল।’

‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন ২০২০’ নামে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগকে অসময়োপযোগী, অপ্রয়োজনীয় এবং উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে অভিহিত করে এই উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ২০ দল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত