কতদূর এগোল ভ্যাকসিন, ওষুধ ও চিকিৎসা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৬ এএম

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উৎপাদন নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। কিছু পদ্ধতিতে সফলতা পাওয়ায় সেগুলোর ট্রায়াল শুরু হয়েছে বৃহৎ আকারে। নানা ওষুধ, টেস্ট, ভ্যাকসিন নিয়ে পুরোদমে চলছে গবেষণা। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

গত বছর চীনের উহানে শুরু হওয়া সার্স-কভ-২-এর প্রাদুর্ভাব শুধু চীনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়েছে পুরো বিশ্বে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে অনেক। আতঙ্কিত বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে একটা ভালো খবরের জন্য। সেটি হচ্ছে ভ্যাকসিন। ভাইরাসের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের মৃত্যু যেন এখন একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এই স্বাভাবিকত্ব অনাকাক্সিক্ষত। এই মৃত্যু আতঙ্কে একমাত্র ভ্যাকসিনই এখন আশা জাগাতে পারে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ১১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ, মারা গিয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার জন। এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধের জন্য একদল মানুষ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। নিয়মিত গবেষণা হচ্ছে। বিজ্ঞানের সর্বোচ্চটুকু কাজে লাগানো হচ্ছে। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কাজ করে যাচ্ছে। যদিও একটি নিরাপদ, কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে এখনো বছরখানেক সময় লাগতে পারে। যতটুকু ওষুধ হাতে আছে, যা দিয়েই কিছুটা কাজ হচ্ছে, তাই গবেষকরা পুনর্নির্মাণ করছেন। ক্লিনিক্যালি যে ওষুধগুলো ট্রায়ালে রয়েছে, সেগুলো নিয়েও একের পর এক পরীক্ষা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১০০ ভ্যাকসিন নিয়ে এখন কাজ হচ্ছে, যার মধ্যে ১৫টি জুন মাসের শুরুর দিকে পরীক্ষা করা হয়। কোন ভ্যাকসিন করোনা নির্মূলে কতটুকু সফল হবে, তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।

যে ওষুধ, ভ্যাকসিন ও থেরাপি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে

রেমডেসিভির

করোনাভাইরাইসের ভ্যাকসিন বা ড্রাগ তৈরির জন্য গবেষকরা কোনো সম্ভাবনাকেই বাতিল করে দিচ্ছেন না। অতীতের সার্স ভাইরাস গোত্রের একটি বলে তারা চেষ্টা করেছেন আগের ওষুধগুলো নিয়ে গবেষণা করতে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ শুরু করা হয়েছিল রেমডেসিভির নামে এই অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগটি নিয়ে। এটি নিয়ে অবশ্য কাজ করা হচ্ছে বেশ আগে থেকেই। শুরুতে এটি পরীক্ষা করা হয়েছিল ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময়। কিন্তু তখন এই ড্রাগটি কাজ করেনি। এবার করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য নতুন করে এই ওষুধের দ্বারস্থ হয়েছেন গবেষকরা। প্রাণীদের শরীরে ওষুধ প্রয়োগে সাফল্য মিলেছে বলে দাবি তাদের। প্রথমদিকে ভাইরাস যখন অতিরিক্ত ছড়াতে শুরু করেছিল, তখন এলোমেলোভাবে নানা ওষুধ দিয়ে রোগীদের সুস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই ওষুধের মধ্যে ছিল রেমডেসিভির ও প্লেসবো (সুগার পিল-জাতীয় ইনজেকশন, স্যালাইনের মতো নানা ধরনের ইনজেকশন, নানা ধরনের থেরাপি)। কিন্তু কোনোটাতেই তেমন কাজ হচ্ছিল না। গবেষকরা খেয়াল করলেন, অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় রেমডেসিভির কিছুটা হলেও ভাইরাসকে প্রভাবিত করছে। এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন অন্যান্য গবেষণা চলা সত্ত্বেও এই ওষুধকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। চীন, ইউরোপ ও আমেরিকায় ডজনখানেকের বেশি জায়গায় ট্রায়াল শেষে এর ব্যবহার নিয়ে গবেষকরা বর্তমানে ইতিবাচক অবস্থানে আছেন। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ০-৩ মাস পর্যন্ত।

কালেট্রা (লপিনাভির/রিটোনাভির)

এইচআইভি ইনফেকশনে চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের জন্য এই অ্যান্টিভাইরাল কম্বিনেশনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য এবং রোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে এমন ব্যক্তিদের শরীরে সংক্রমণ ঠেকাতে ২০ বারেরও বেশি এই ওষুধের ট্রায়াল দেওয়া হয়। শুরুতে চীনে যখন প্রাদুর্ভাবের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছিল, তখন প্রায় ২০০ মানুষের ওপর এই ড্রাগ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ২৮ দিনেও কোনো পরিবর্তন বা সুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। মার্চ মাসে জানানো হয় এই ওষুধ কাজ করছে না, করবে এমন সম্ভাবনাও কম। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ওষুধ কাজ করা শুরু করে। উহানের জিনিয়ানটান হাসপাতালের যে চিকিৎসকরা সন্দেহ করেছিলেন এতে কাজ হবে না, তারাই এপ্রিলে জানান, এই কালেট্রা হচ্ছে দ্বিতীয় ওষুধ যেটি কয়েকজন কভিড-১৯ রোগীকে সুস্থ হতে সহায়তা করেছে। তারা নিজেরাও এটি বিশ্বাস করেছেন। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ০-৩ মাস পর্যন্ত।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন/ক্লোরোকুইন

নানা কারণে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নামটা বেশ পরিচিত অনেকের কাছেই। কিছুদিন আগেও এই ওষুধ খেলেই কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এমন বেশ তথ্য ছড়িয়েছিল। অনেকে এটি বিশ্বাস করে খাওয়াও শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞান কখনো সঠিক গবেষণা এবং ফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ওষুধ সরাসরি খেতে অনুমতি দেয় না। এই ওষুধের বেলাতেও এমনটি ঘটল। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন মূলত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। লিউপাস ও রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসের জন্যও এই ওষুধের ব্যবহার আছে। এই ওষুধের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছিল, এটি নভেল করোনাভাইরাসকে শরীরের কোষে প্রবেশে বাধা দেয়। একটি ছোট ফ্রেঞ্চ গবেষণায় জানানো হয়েছিল, কয়েকজন কভিড-১৯ রোগী এই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু আসলে জানার কোনো সঠিক উপায় ছিল না যে তাদের সুস্থতার পেছনে এই ওষুধই কাজ করেছে কি না। আবার কিছু গবেষণা অনুযায়ী, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মাধ্যমে তারা সফলতা পেয়েছে। কিন্তু এরপরও জুনের মাঝামাঝি এসে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে জরুরি ভিত্তিতে কভিড-১৯-এর রোগীদের এই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি বাতিল করে দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধ হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। কভিড রোগীদের জন্য এখনো ডজনখানেকের বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। তবে মে মাসের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুরক্ষার কথা বলে কিছু জরুরি ট্রায়াল বন্ধ করে দেয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগ প্রতিরোধের জন্য শুরু করা একটি আন্তর্জাতিক ট্রায়ালও সুরক্ষার অভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই ওষুধের ফল পেতেও অপেক্ষা করতে হয় ০-৩ মাস পর্যন্ত।

নন-ড্রাগ থেরাপি : প্লাজমা

কভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন এমন রোগীদের শরীর থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এতে অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে নতুন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা তাকে ভাইরাস থেকে লড়াই করার শক্তি দেয়। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হচ্ছিল আরও ১০০ বছর আগে থেকে। কম ঝুঁকিপূর্ণ আর কম ক্ষতিকর দিক থাকায় এখন পর্যন্ত এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। কিছু গবেষণা থেকে জানা গেছে, প্লাজমা পদ্ধতি ভাইরাসের স্তরকে কমিয়ে দেয় বলে এটি নিয়ে চীন, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রচুর পরিমাণে করা হচ্ছে। এপ্রিল মাসে চীনে ১০ জন মানুষের ওপর শুরুতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। দেখা যায়, যারা প্লাজমা নেয়নি, তাদের তুলনায় প্লাজমা গ্রহণ করা ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়েছেন। তবে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে প্লাজমা কম পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রচুর সংখ্যক রোগীকে পর্যাপ্ত প্লাজমা দেওয়া যাচ্ছে না। এই পদ্ধতির ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ০-৩ মাস পর্যন্ত।

ডায়াগনস্টিক টেস্টিং

স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি তাদের অর্থনীতি নতুনভাবে চালু করতে চায়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। শুরুতে ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা শুধু ল্যাবরেটরিভিত্তিক হওয়ায় স্যাম্পল ও পরীক্ষার জন্য জরুরি জিনিস সংগ্রহে সংকট দেখা দেয়। আমেরিকায় নতুন অনেক বাণিজ্যিক পরীক্ষার অনুমোদন দ্রুত পাওয়া গেছে এ কথা সত্যি, তবে সেগুলোর যথার্থতা নিয়েও উদ্বেগ রয়ে গেছে। কিছু নীতিনির্ধারক বলছেন, ভাইরাসকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন ধরনের পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির বিকাশ আরও বেশি করে করা উচিত। এখন দুই ধরনের ডায়াগনস্টিক টেস্ট হচ্ছে। এক, ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটারিয়াল অর্থাৎ আরএনএ এবং দুই, অ্যান্টিজেন হিসেবে পরিচিত ভাইরাল প্রোটিনের সন্ধান। আরএনএ টেস্টিংয়ের চেয়ে অ্যান্টিজেন টেস্টিংয়ের যথার্থতা কম। অতিরিক্ত বিশ্লেষণ ছাড়া আবার এটা বলা কঠিন যে, আরএনএ বা অ্যান্টিজেন টেস্ট সক্রিয় ভাইরাসের মধ্যকার পার্থক্য আলাদা করতে পারছে। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ০-৬ মাস পর্যন্ত।

টেস্টিং : কোবাস সার্স-কভ-২

মার্চ মাসে আমেরিকায় এই টেস্ট অনুমোদন পায়। রোচে ফার্মাসিউটিক্যালস জানায়, প্রতি মাসে আট মিলিয়ন টেস্ট তারা করার চেষ্টা করছে। এই টেস্টে নাসারন্ধ্র থেকে স্যাম্পল নিয়ে ল্যাবে পাঠানো হয় আরএনএ চিহ্নিত করার জন্য। তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে নির্ভুলভাবে ৯৫ শতাংশ ভাইরাস চিহ্নিত করা সম্ভব।

ভ্যাকসিন : এমআরএনএ ১২৭৩

এই এমআরএনএ ভ্যাক্সিনটি তৈরি করা হয় নতুন করোনাভাইরাসের উপরিপৃষ্ঠ থেকে যে স্পাইক প্রোটিন পাওয়া যায় তা এনকোড করে পাওয়া মেসেঞ্জার আরএনএর মাধ্যমে। একটি লিপিড ন্যানোপার্টিকেলের মাধ্যমে এটি উদ্ধার করা হয়। মে মাসে আমেরিকায় তিন এলাকায় আটজনের মধ্যে প্রথমবার এই ভ্যাক্সিনের ট্রায়াল দেওয়া হয়। কোনো জায়গা থেকেই গুরুতর কোনো ফল আসেনি। তাই একে সফলতা ধরে নিয়েই এই ভ্যাকসিন নিয়ে এখন বড় আকারে কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাসে এর ট্রায়াল শেষে এটিকে ফাস্ট-ট্র্যাক রিভিউ দেওয়া হয়। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ০-৩ মাস পর্যন্ত।

এমআরএনএ মোবাইল ইউনিট

এই এমআরএনএ ইতিমধ্যে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। এ ছাড়া ফ্লু ও অন্যান্য ভাইরাসে ক্লিনিক্যাল উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে এটি নিয়ে। মে মাসে, জার্মান বায়োটেক ঘোষণা দেয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিন প্রাণীর শরীরে প্রয়োগের পর শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ইমিউন রেসপন্স পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত মানুষের শরীরে ট্রায়াল দেওয়া শুরু করা হবে। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৩-৬ মাস পর্যন্ত।

ওষুধ : অ্যাপ্লিডিন (প্লিটিডেপসিন)

প্লিটিডেপসিন, মানুষের শরীরের কোষকে আক্রান্ত করার জন্য যে প্রোটিন, সেটিকে রুখে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্যানসার থেরাপিতে অ্যাপ্লিডিন ব্যবহার করা হয়। করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন ল্যাব টেস্টে ইতিমধ্যে এটির কার্যকারিতা দেখা গেছে। স্পেনে কভিড-১৯-এর ট্রায়ালে খুব দ্রুত এর প্রয়োগ শুরু হবে। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৩-৬ মাস পর্যন্ত।

নন-ড্রাগ থেরাপি : এনকেজি ২ ডি-এসিই ২ সিএআর-এনকে কোষ

মানব শরীরে ক্যানসার বা ভাইরাস প্রবেশের জন্য এনকেজি ২ ডি কোষ ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়। আর এই কোষের সঙ্গে মিলে এসিই ২ কোষ করোনাভাইরাসকে মানবদেহে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এই থেরাপি প্রথম দুই ট্রায়ালে সার্স-কভ-২ ভাইরাস বহনকারী ৯০ জন মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়। ২৮ দিনের মধ্যে বেশির ভাগ রোগীর মধ্যেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ০-৩ মাস পর্যন্ত।

ওষুধ : আইএফএক্স-১

সংক্রমণ বন্ধের জন্য মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ডিজাইন করা হয়। এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে, নেদারল্যান্ডসে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে আইএফএক্স-১ প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হয়। এর ফল আসতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত। অন্যান্য সংক্রমণের বেলাতেও এটি কাজ করবে কি না, সেটি নিয়েও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ওষুধের ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৬-১২ মাস পর্যন্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত