কিশোরের মৃত্যুর আগে লিপিকা এন্ড্রুর আবেগময় স্ট্যাটাস

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ০৭:২০ এএম

ক্যানসারে আক্রান্ত প্লেব্যাক-সম্রাট এন্ড্রু কিশোর মৃত্যুবরণ করলেন ৬ জুলাই। ৫ জুলাই ভক্তদের আশ^স্ত করতে ফেইসবুকে এক দীর্ঘ বক্তব্য তুলে ধরেন এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু। তিনি লেখেন, ‘আমি কিশোরের বউ। আপনাদের সঙ্গে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, আমরা সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম। সেখানে কিশোরের ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি শেষ হয় এপ্রিল মাসে। ডাক্তার বলেন এখন আর কোনো কিছুর দরকার নেই। মেডিসিন দিয়ে বলেন আগস্ট মাসে আসতে। আমরা ১৩ মে দেশে আসার জন্য টিকিট কাটি, কিন্তু কিশোর ভয় পায়। আমি টিকিট বাতিল করি। ডাক্তার বলেন, এটা কেমোর জন্য, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। পরে ১০ জুন আবার টিকিট কাটি। কিন্তু হঠাৎ ২ জুন কিশোরের হালকা জ্বর আসে। ৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি করেন ডাক্তার। কিন্তু জ্বর বারবার আসতে থাকে। কোনো মেডিসিন তার শরীরে কাজ করছিল না। ডাক্তার আমাকে বলেন, পেট স্ক্যান করতে হবে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম, মনে মনে শুধু ঈশ্বরকে ডেকেছি। কারণ শুরুতে ডাক্তার বলেছিলেন, লিম্ফোমা যদি একবারে নির্মূল না হয়, যদি আবার ফিরে আসে, তাহলে সেটা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে আসে। আর খুব দ্রুত ছড়ায় এবং সেটা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। ৯ জুন পেট স্ক্যান হয়। রাতটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। সকাল ১০টার আগে হাসপাতালে গিয়ে বসে থাকি কিশোরের পাশে। কিশোর আমাকে বলল, ডাক্তারকে বলবা, হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিতে, আমরা দেশে ফিরব। কিছুক্ষণ পর ডাক্তারের কাছে যাই। ডক্টর লিম একটাই কথা বলল, লিম্ফোমা ব্যাক করেছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি, কোনো কথা বলতে পারছিলাম না, বুঝলাম সব শেষ। ডাক্তার বললেন, এন্ড্রুকে বলব? আমি বললাম, বলতে তো হবে। চোখের জল ঠেকাতে পারছিলাম না, অনেক কষ্টে ডাক্তারকে বললাম, এখন কী করব। ডাক্তার বললেন, ‘আই এম সরি। আমার আর কিছুই করার নেই।’ নিজেকে এত অসহায় লাগছিল যে, কী করব বুঝতে পারছিলাম না। কিশোর বুঝতে পেরেছিল। ডাক্তার কিশোরকে বলেন, লিম্ফোমা ব্যাক করেছে। কিশোর ডাক্তারকে বলে, তুমি আজই আমাকে রিলিজ করো, আমি আমার দেশে মরতে চাই। আমাকে বলে, আমি তো মেনে নিয়েছি, সব ঈশ্বরের ইচ্ছা, আমি তো কাঁদছি না। তুমি কাঁদছো কেন? কিশোর মানসিকভাবে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। যেদিন থেকে জ্বর এসেছিল সেদিন থেকে। কিশোর হাইকমিশনে ফোন করে বলে, কালই আমার ফেরার প্লেন ঠিক করে দেন। আমি মরে গেলে আপনাদের বেশি ঝামেলা হবে। জীবিত অবস্থায় পাঠাতে সহজ হবে। ১১ জুন রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফিরি আমরা। আমি ডাক্তারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আর কত দিন সে বেঁচে আছে। সে লিখেছিল, এক মাস, সর্বোচ্চ এক বছর। এখন কিশোর কোনো কথা বলে না। আমি বলি কী ভাবো, ও বলে কিছু না, পুরনো কথা মনে পড়ে আর ঈশ্বরকে বলি আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, বেশি কষ্ট দিও না। ক্যানসারের লাস্ট স্টেজ খুব যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টের হয়। এন্ড্রু কিশোরের জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করবেন, যেন কম কষ্ট পায় এবং একটু শান্তিতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত