ফজলে কবির গভর্নর থাকছেন বাড়ছে বয়স

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ০৫:৪১ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আরও দু বছর থাকছেন ফজলে কবির। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী, ৬৫ বছর বয়স হয়ে গেলে কেউ গভর্নর থাকতে পারেন না। বয়সের কারণে গত ৩ জুলাই ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সরকার তাকে আরেক দফায় গভর্নর পদে রাখতে চায়। এজন্য আইন সংশোধন করে আজ বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই আইনের গেজেট হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, কাল (বুধবার) সকালে সংসদে বাজেট অধিবেশনে এই আইনের সংশোধনী বিল উপস্থাপন করা হবে। বিলটি পাস হলে পরের দিনই গেজেট হয়ে যাবে। ফলে ফজলে কবির আরও দু’বছর গভর্নর হিসেবে থাকতে পারবেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করছেন দুজন ডেপুটি গভর্নর। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে করোনার মধ্যেও আইনটি দ্রুত সংশোধন করা হচ্ছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু ফজলে কবিরকে আবার নিয়োগ দিতেই সংশোধন করা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। তিনি দুই বছরের জন্য নিয়োগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজকের বাজেট অধিবেশনে গভর্নরের বিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আইনটি পাস করে শেষ হতে পারে বাজেট অধিবেশন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবর্তমানে ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান ও ডেপুটি গভর্নর-২ আহমেদ জামাল দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৪ জুলাই থেকে তারা গভর্নরের দায়িত্ব পালন করছেন।  গত ২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করলে তাড়াহুড়ো করে পরদিনই ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেয় সরকার। তখন তিনি বিদেশে ছিলেন এবং ফিরে এসে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০ মার্চ। সেই হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ১৯ মার্চ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩৪ দিন আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরের মেয়াদ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার। এতে বলা হয়, ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি গভর্নর থাকবেন।

গত ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দ্য বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিদ্যমান আইনে গভর্নরের মেয়াদ ৫ বছর এবং তাকে পুনঃনিয়োগও দেওয়া যায়। তবে ৬৫ বছর বয়সের কেউ গভর্নর হতে বা থাকতে পারেন না। এজন্য আর্থিক খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে ৬৫ বছরের পর গর্ভনর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এমনকি বাংলাদেশে ব্যাংকে গভর্নর হিসেবে দায়িত্বপালনকারী অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেও ৬৫ বছর পর পুনঃনিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত ‘দ্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্টস অর্ডার নম্বর ১২৭, ১৯৭২) এর আর্টিকেল ১০ এর ক্লোজ ৫ এর শর্তাংশ বা প্রভিশন বিলুপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত