লাদাখ সীমান্ত নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরেই পরাশক্তিধর দুই দেশ চীন ও ভারতের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। সম্প্রতি সীমান্তে উভয় দেশের সেনাদের মধ্যে হাতাহাতি মারামারির ঘটনায় ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল লাদাখ সীমান্ত প্রশ্নে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা বেশ কয়েক দফায় বৈঠক করেও লাভ হয়নি। কিন্তু সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র মধ্যে আলোচনা হলে উত্তেজনার পারদ কমতে থাকে। দুই দেশই সীমান্ত থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। গত সোমবার দেশ দুটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রথমে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করে ভারতীয় অংশ। এরপর গতকাল সীমান্ত থেকে চীনও সেনা প্রত্যাহার করতে শুরু করে। উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় তারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা কঠোরভাবে মেনে চলবে। কোনো দেশই একতরফাভাবে সেই রেখা লঙ্ঘনের চেষ্টা করবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই স্বীকার করেছে যে, যথাসম্ভব দ্রুত এই উত্তেজনা কমানো দরকার। সীমান্ত সেনামুক্ত হওয়া প্রয়োজন। দুই দেশই তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে।
চীনা কর্র্তৃপক্ষও ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তেজনা প্রশমন ও সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সীমান্ত বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন মতে, চীনের সেনারা গালওয়ানে এক থেকে দুই কিলোমিটার পিছিয়ে গেছে। ১৫ জুনের সংঘর্ষস্থল গালওয়ানের পিপি-১৪ পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সরেছে। ভারতীয় বাহিনীও একইভাবে পিছিয়েছে। গালওয়ানে দুই দেশই বাফার জোন তৈরিতে সম্মত হয়েছে। তবে প্যাংগং লেকের উত্তর ও ডেপসাং এলাকা থেকে এখনো পিছু হটেনি চীন।
