সম্প্রতি নৌপরিবহন অধিদপ্তর জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, যে কোনো লাইটার ভেসেলকে সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র অতিক্রমের (ক্রসিংয়ের) জন্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) অনুমোদন নিতে হবে। অন্যথায় ডব্লিউটিসি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) জানিয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি বা সরকারের কোনো এজেন্ট না হওয়ায় কোনো লাইটার জাহাজের বিরুদ্ধে মামলা করার ভিত্তি নেই ডব্লিউটিসির।
সার্কুলার পাওয়ার পর শিল্পমালিকরা সোচ্চার হয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সঙ্গে সভা করেন। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ সময় বলেন, নোটিসে ভুল রয়েছে, পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে। তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, নিজস্ব লাইটার ভেসেলের পর অতিরিক্ত নৌযানের প্রয়োজন হলে তা ডব্লিউটিসি থেকেই নিতে হবে।
বিসিএমএ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শিল্পের প্রয়োজন ও ভোক্তা সাধারণের কাছে প্রতিযোগিতামূলকভাবে শিল্পপণ্য পৌঁছানোর স্বার্থে নৌবাজার থেকে অথবা নৌযান মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি নৌযান ভাড়া নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত। কারণ এতে দর কষাকষি করে ভাড়া নির্ধারণ করা যায়, যা উভয়ের জন্যই লাভজনক হয়। তাছাড়া, এই নৌযান মালিকরা ডব্লিউটিসির সদস্য এবং তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। শুধুমাত্র ডব্লিউটিসি থেকে নৌযান ভাড়া নিতে হলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে লাইটার ভেসেল ও মাদার ভেসেল উভয় ক্ষেত্রেই ডেমারেজ বা জরিমানা দিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবহন খরচ না থাকায় পণ্য মূল্য বেড়ে যাবে যা ভোক্তা তথা সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে। সব ব্যবসাই যেমন প্রতিযোগিতামূলক, তেমনি নৌযান ভাড়া করাটাও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া জরুরি। কেননা, এখানে ভোক্তার স্বার্থ জড়িত।
