বিজেএমসিকে চিঠি

তিন দিনের মধ্যে দায়দেনার তথ্য চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০২:০২ এএম

বন্ধ করে দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর প্রকৃত দায়-দেনার তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনকে (বিজেএমসি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি। আগামী তিন দিনের মধ্যে অবসায়নকৃত পাটকলের স্থায়ী শ্রমিকদের দায়-দেনার তথ্য চাওয়া হয়েছে। কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিঠিতে নির্দিষ্ট ছকে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। কাউকে নগদ টাকা দেওয়া হবে না। সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে বলা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজেএমসির পাঠানো তথ্য ক্রস চেক (পুনঃযাচাই) করা হবে। শ্রমিকরা যেন তার ন্যায্যটা পায় এটা যেমন দেখা হবে, তেমনি কোনো বাড়তি অর্থও দেওয়া হবে না।

বিজেএমসিকে ৭ জুলাই পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অবসায়নকৃত জুটমিলের স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও নিষ্পত্তিকরণে প্রকৃত হিসাব জানা প্রয়োজন। এজন্য বিজেএমসির অধীনে ২৬টি জুটমিলের অডিট রিপোর্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংকঋণ ও অন্যান্য দেনা-পাওনার হিসাব প্রেরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেনিফিট ক্যালকুলেশন হিসাবটা এত সহজ নয়। তবে আমরা এই হিসাব পাঠানোর জন্য রাতদিন কাজ করে চলছি। বলতে পারেন ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে। আগেই এ সংক্রান্ত একটা হিসাব ছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় যেভাবে চেয়েছে, সেভাবে নেই। এজন্য আমরা ছোট ছোট মিলগুলোর তথ্য দ্রুতই পাঠিয়ে দেব। অর্থ মন্ত্রণালয় ওসব মিলের হিসাব ও তথ্য যাচাই-বাছাই করতে থাকবে, এর মধ্যে বড় মিলগুলোর হিসাবও সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সব মিলে আলাদা আলাদা তথ্য জানানোর কথা বলেছি। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পর যারা অবসরে গেছেন, তাদের বেশিরভাগেরই ব্যাংক হিসাব নেই। শ্রমিকদের বেনিফিট সংক্রান্ত সব হিসাব সম্পন্ন করতে একটু সময় লাগতে পারে, এটি নিয়ে কমিটির সঙ্গে কথা বলব।

এর আগে বন্ধ হয়ে করে দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রকৃত পাওনার হিসাব করতে কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহকে সভাপতি করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিজেএমসি অধীনে থাকা ২৬টি পাটকলের মধ্যে মনোয়ার জুটমিল ছাড়া সবগুলোতেই উৎপাদন চলছিল। এসব কারখানায় ২৪ হাজার ৮৬৬ স্থায়ী শ্রমিকের বাইরে তালিকাভুক্ত ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক আছে প্রায় ২৬ হাজার। বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো লাভ দেখাতে পারলেও বিজেএমসির আওতাধীন মিলগুলো বছরের পর বছর লোকসান করে যাচ্ছে, যার পেছনে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো গত ৪৪ বছরের মধ্যে মাত্র চার বছর লাভ করেছে। ৪৮ বছরে এই খাতে সরকারকে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। প্রতি বছর শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ মেটাতে সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত