বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এছাড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৮ জন। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আক্রান্তের বিবেচনায় বিশ্বে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর মধে নতুন করে বাজে অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভারত, পাকিস্তানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ।
তবে গত মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান বলছে, করোনার সবচেয়ে বাজে অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটি করোনা সংক্রমণ শুরুর পরে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার নতুন শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ২০৯ জন। আক্রান্তের এ সংখ্যা আগের দৈনিক সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সর্বোচ্চ ৫৫,২২০ জনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল গত ২ জুলাই।
বিবিসি জানায়, ক্যালিফোর্নিয়া এবং টেক্সাস- দুটি রাজ্যেই দৈনিক ১০ হাজারের বেশি মানুষের ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এ নতুন রেকর্ড গড়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব মহামারীর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে আছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও হোয়াইট হাউজের করোনাভাইরাস বিষয়ক উপদেষ্টা ড.অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন, দেশ এখনো করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের কবলে আছে।
বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যায় যে কোনো দেশের চেয়ে ওপরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা ১৩১,০০০ পার হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি রাজ্যে কভিড-১৯ এর নতুন সংক্রমণ বাড়ছে, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
জেএইচইউর তথ্য অনুসারে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং মারা গেছেন ৬৬ হাজার ৭৪১ জন।
এদিকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ১৯ হাজার ৬৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ২১৩টিরও বেশি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
