সাহারা খাতুনের জীবনাবসান

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ০৫:১৯ এএম

চলে গেলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।

গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে মারা যান তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।  তিনি দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মজিবুর রহমান গতকাল রাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও শোক জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেন, সাহারা খাতুন ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে তিনি গণতন্ত্রের বিকাশসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অপরিসীম অবদান রেখেছেন।  তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিককে হারাল।

প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনিসহ সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারী নেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারাল। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।

সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী জানান, ব্যাংকক স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিট) বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ইন্তেকাল করেন। এর আগে গত সোমবার থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

গত ২ জুন জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় সাহারা খাতুন ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ২২ জুন দুপুরে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে ফের তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এর মধ্যেই পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাইছিল, যদিও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তাতে দেরি হয়। সবশেষে গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে থাইল্যান্ড নেওয়া হয়েছিল।

সাহারা ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা-মাতা হলেন যথাক্রমে আব্দুল আজিজ ও টুরজান নেসা। তিনি বিএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহারা খাতুন ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। তৃণমূল থেকে লড়াই করে রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা চিরকুমারী সাহারা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে তিন বছরের বেশি সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

সহারা খাতুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য ছিলেন।

সাহারা খাতুনের মরদেহ কবে দেশে আনা হবে তা আজ শুক্রবার নির্ধারণ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত