ভিয়েতনামে মানব পাচার আটক ৩

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ০৫:৪৪ এএম

রাজধানীর পুরানা পল্টন থেকে ভিয়েতনামে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব। গত বুধবার পুরানা পল্টনের মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস ও দি জেকে ওভারসিস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, মানব পাচার চক্রের হোতা জামাল উদ্দিন ওরফে সোহাগ, কামাল হোসেন ও জামাল হোসেন। এ সময় তাদের থেকে ২৪৫টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রকিবুল হাসান এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, আটকরা অবৈধভাবে ভিয়েতনাম গিয়ে আটকে পড়া ২৭ জন ও দেশটি থেকে ফেরত আসা ১১ বাংলাদেশি পাচারের সঙ্গে জড়িত। এই কাজে মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিস, দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড, অ্যাডভেন্ট ওভারসিস লিমিটেড, মেসার্স সন্ধানী ওভারসিস লিমিটেড, আল নোমান হিউম্যান রিসোর্স লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আটকরা ৩৮ জনকে পাচারের কথা স্বীকার করেছেন। ভিয়েতনামে বাংলাদেশি দালাল আবদুল জব্বার, মোস্তফা, গোলাম আজম সুমন, কল্পনা, আজমির, মিলন, শোভন, আতিকসহ কয়েকজনের মাধ্যমে আরও পাচারের চেষ্টা করছিলেন।

র‌্যাব জানায়, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের ভিয়েতনামে কাজের দারুণ সুযোগ রয়েছে জানিয়ে এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে ভিয়েতনাম যেতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের থেকে চার লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। পাসপোর্ট তৈরির পর তথ্যগুলো ভিয়েতনামে অবস্থানরত দালালদের কাছে পাঠানো হয়। তারা পাসপোর্টের আলোকে ভিয়েতনামের ভাষায় অফার লেটার বাংলাদেশের এজেন্সিতে পাঠায়। অফার লেটারের মাধ্যমে ভিয়েতনাম দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভিয়েতনাম সরকার স্বল্পমেয়াদে (সর্বোচ্চ এক বছর) ডিএন ভিসা দেয়। এই ভিসায় ভিয়েতনামে প্রবেশের ক্ষেত্রে নগদ দুই হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে যেতে বাধ্য করে।

ভিয়েতনামে যাওয়ার পর দালালরা বিমানবন্দর থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের পাসপোর্ট জিম্মায় নিয়ে তাদের আটকে রাখে। পরবর্তী সময়ে পরিবারের থেকে টাকা আদায় করা হয়। এক পর্যায়ে স্থায়ী কর্মসংস্থানের পরিবর্তে ছোট ছোট কাজ দেওয়া হয়। ফলে তাদের পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব হয় না এবং সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা রকিবুল হাসান।

জানা গেছে, দি জেকে ওভারসিস লিমিটেড ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ডিএন ভিসার মাধ্যমে ১৪ বাংলাদেশিকে ভিয়েতনামে পাঠায়, এখন পর্যন্ত তারা কোনো কাজ পাননি। আর মাশ ক্যারিয়ার সার্ভিসের নিজস্ব রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। দীর্ঘদিন তারা অন্য এজেন্সির লাইসেন্স ব্যবহার করে শ্রমিক পাঠিয়ে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত