নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পাহাড়ের চূড়ায় হাফসানা খাতুনকে (১৬) একা পেয়ে ফুসলিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার আপন দুলাভাই আবুল কাশেম (৩৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনশী এ তথ্য জানান।
জানা যায়, ১ জুলাই বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কামারখালী পাহাড়ি টিলায় কচুরলতা কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হাফসানা। পরদিন সন্ধ্যার দিকে পাহাড়ি আলু তোলার গর্তে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখে কাপড় গুঁজানো ও গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় হাফসানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন (শুক্রবার) বিকেলে থানায় মামলা করেন হাফসানার বাবা। ঘটনার ৭ দিন পর ধর্ষণ ও হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, হাফসানাকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে তার দুলাভাই স্থানীয় কলিকাপুর গ্রামের আবু হানিফের ছেলে আবুল কাশেম। ঘটনাটি সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। শালির জন্য তার মায়া কান্না ও ঘটনার দুদিন পর তার ওপর মুখোশধারীদের হামলার ঘটনা সাজিয়ে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় পুলিশের সন্দেহ হয়। এ ঘটনায় কাশেমকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় কাশেম। বৃহস্পতিবার বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয় কাশেম।
