করোনার প্রভাবে চরম অর্থসংকট

সরকারি গাড়ি কেনাকাটায় স্থগিতাদেশ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ০৬:৫৯ এএম

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে সরকার। থমকে গেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কিন্তু সরকার পরিচালনায় ব্যয় কমেনি। ফলে বাধ্য হয়ে কৃচ্ছ্রসাধন বা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সব ধরনের সরকারি গাড়ি কেনাকাটা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নতুন গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় যানবাহন ক্রয় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে বুধবার একটি পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রকসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো আমরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু সরকার পরিচালনা ও জনসেবায় ব্যয় কমেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো স্বাভাবিক হয়নি, রাজস্বও দিতে পারছে না মানুষ। ফলে বাধ্য হয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের কৌশলে যেতে হচ্ছে। কারণ অর্থ সংস্থান তো করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় প্রক্রিয়া কমল না জেনে বলা যাবে না। কারণ সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রচুর গাড়ি কেনা হয়ে থাকে।

পরিপত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, চলমান কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির আলোকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় সব ধরনের নতুন বা প্রতিস্থাপক হিসেবে যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নিম্ন অগ্রাধিকার বা কম গুরুত্বপূর্ণ এবং মধ্যম অগ্রাধিকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ খরচ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ‘মধ্যম অগ্রাধিকার’ প্রকল্পের যেসব খাতে অর্থ ব্যয় না করলেই নয়, এমন টাকা খরচের ক্ষেত্রে ‘কঠোর’ বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পের অর্থ ব্যয় অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এমন সব নির্দেশনা দিয়ে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রকসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের কাছে পরিপত্র পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারীতে রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। এ সময়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার ২৫১ কোটি টাকা।

এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় কমেছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক। আগের অর্থবছরের মে পর্যন্ত সময়ে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা। ওই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এ বছরের জন্য ব্যয় কমানোর পলিসিটা ঠিক আছে। তবে ব্যয় কমানোটা কোনো সমাধান হতে পারে না; বরং রাজস্ব বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানোর শক্তি অর্জনটাই মূল কথা। কিন্তু আমরা সেটা দেখছি না। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য সরকারের তেমন কোনো পরিকল্পনাও দেখছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত