বিশ্বে মৃত্যুহার কমে ২.৯৯%

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০৫:২৫ এএম

বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের সপ্তম মাস চলছে। এরই মধ্যে মহামারী রূপ নেওয়া এই ভাইরাসজনিতে রোগ কভিড-১৯-এ আক্রান্তদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখের বেশি মানুষ। আর মারা গেছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৪ জন। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা অনুপাতে মৃত্যুর হার ছিল ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে গত ২৭ মে থেকে বিশ্বজুড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করার পরে শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুসারে ২৭ মের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত টানা ৪৫ দিন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বিশ্বে।  এর মধ্যে  কোনো কোনো দিন রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ। তবে এ সময়টাতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই কদিনে শনাক্ত হয়েছে ৬৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রোগী। এই হিসাবে ৪৫ দিনে শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার মাত্র ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। অথচ এর আগে বিশ্বে  ৫৬ লাখ ৫১ হাজার করোনা রোগী শনাক্তের বিপরীতে মৃত্যু ছিল ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৯ জন।  ওই কদিন শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার ছিল ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে লাখের বেশি আরোগ্য হয়েছে।  উল্লিখিত ৪৫ দিনে বিশ্বে ৪৮ লাখের বেশি করোনা রোগী আরোগ্য লাভ করেছে। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত ৭২ লাখ ৯২ হাজার ২৩১ জন করোনা জয় করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মানবদেহে ধরা পড়ে। খুব দ্রুত বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। চীনে প্রথম মৃত্যুর দুদিন পর ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে প্রথম রোগী ধরা পড়ার পর জানা যায়, চীনের রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে গেছে এই ভাইরাস। তারপর হু হু করে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। দেড় মাসের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা বাদে সব মহাদেশেই ধরা পড়ে রোগী। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা তখন এই পরিস্থিতিকে মহামারী আখ্যায়িত করে।

কঠোর লকডাউনে চীন তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও তত দিনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে রাশিয়ায় ব্যাপক মাত্রা পায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর চার মাসের মাথায় ১ এপ্রিল বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ায়। এর পরের সাত সপ্তাহে আরও ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় ২১ মে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়ে যায়। এরপর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় ২৮ জুন সেই সংখ্যা কোটিতে পৌঁছায়। এর সঙ্গে আরও ২৪ লাখ যোগ হয়েছে পরে ১২ দিনে।

এদিকে করোনায় প্রথম মৃত্যুর পর থেকে হিসাব করে দেখা গেছে, এই সংখ্যা ১ হাজার হয়েছিল প্রায় এক মাস পরে। আর প্রথম এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয় প্রথম মৃত্যুর পরের প্রায় ১০০ দিনে। তার পরের এক লাখ মানুষ অবশ্য মাত্র ১৮ দিনে মারা যায়। এর পরের লাখের মৃত্যু হয় ২০ দিনে। চতুর্থ লাখের মৃত্যু হয় ২২ দিনে। এরপর এক লাখ মানুষ মারা যায় পরের ২১ দিনে।

সম্প্রতি কয়েকজন চিকিৎসক ও গবেষক দাবি করেছেন, করোনাভাইরাস (সার্স-কভ-২) দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অবশ্য এখনো এমন ‘তত্ত্ব’ স্বীকার করেনি। কিন্তু পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বাড়লেও উল্টো চিত্র ছিল দৈনিক শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুর হারে। গেল ৪৫ দিনের প্রতিদিনের শনাক্ত রোগী অনুপাতে মৃত্যুহার অনেক কমেছে। পাশাপাশি এখন প্রতিদিনের আরোগ্যের সংখ্যাও বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত