ভার্চুয়াল সভায় দুদক চেয়ারম্যান

ত্রাণ ও স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০৬:২০ এএম

ত্রাণ ও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিপরায়ণদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল শুক্রবার দুদকের এক ভার্চুয়াল সভায় এ কথা বলেন তিনি।

দুদকের এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার (২০১৯ সাল) বাস্তবায়িত প্রতিবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিশনের এ সভা হয়। সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে কমিশনের নিয়মিত অভিযান স্থগিত রাখা হলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্য খাতে চিহ্নিত দুর্নীতিপরায়ণদের বিরুদ্ধে অভিযান অভিযান আরও সক্রিয় করা হবে।

সভার শুরুতেই দুদকের দুই কর্মকর্তাসহ দেশে করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের ১৮ জনের বেশি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দুজন মারা গেছেন। এর মধ্যেও আপনারা (কর্মকর্তারা) মামলা করছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছেন, অভিযোগসংশ্লিষ্টদের তলব করছেন, জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অর্থাৎ কমিশনে দুর্নীতির অভিযাগের অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রসিকিউশন, প্রতিরোধসহ সকল প্রকার দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা আপনাদের কৃতিত্ব। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাসায় বসে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই নথির মুভমেন্ট রেজিস্টার অনুসরণ করতে হবে এবং তা কমিশন সচিবকে অবহিত করতে হবে। অর্থ পাচার অনুবিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালে কমিশনে অর্থ পাচারের অভিযোগের ১১টি মামলার ১১টিতেই আসামিদের সাজা হয়েছে। ২০১৮ সালেও শতভাগ মামলায় সাজা হয়েছিল। এককভাবে যখন দুদক অর্থ পাচার মামলা করত তখন অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থ পাচার বন্ধ করতে হলে দ্রুততর সময়ে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে অপরাধলব্ধ সম্পদ উদ্ধার করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) অন্যান্য সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে। কীভাবে এসব সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করা যায় তা কমিশনের কৌশলপত্রের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এসব কর্মকর্তা নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একটি দুর্নীতির খবরও কমিশনকে জানায়নি। তাদেরও জবাবদিহিতা দরকার।’ এ সময় সৎ, স্বচ্ছ ও দৃঢ়চেতা কর্মকর্তাদের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আরেক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালসহ এ জাতীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি দুদকের গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসছে এরূপ কিছু  প্রতিষ্ঠান কাক্সিক্ষত মাত্রায় সরকারি পরিষেবা দিচ্ছে না।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়র বখ্ত, মহাপরিচালক আ ন ম আল ফিরোজ, মো. মফিজুর রহমান ভূঞা, মো. জহির রায়হান, মো. রেজানুর রহমান, সাঈদ মাহবুব খান ও মো. জাকির হোসেন। সভা পরিচালনা করেন দুদকের আইসিটি ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত