আনন্দবাজার পত্রিকার খবরের প্রতিবাদ বিজিবির

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০৬:২১ এএম

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পত্রিকাটিতে ৭ জুলাই ‘অরক্ষিত জমিতে পা পড়ছে বাংলাদেশির’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়। গতকাল শুক্রবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, আনন্দবাজারে প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে আরও বলা হয়, ‘সংবাদে ঘটনাস্থল রানীনগর সীমান্তের কথা বলা হয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্লিখিত এলাকাটি রাজশাহী বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা চারঘাট বিওপি থেকে শুরু করে তালাইমারী বিওপি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এখানে পদ্মা নদী বরাবর শূন্য লাইন অতিক্রম করেছে। এর উভয় পার্শ্ব বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল।’

বিজিবির প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সীমান্তের রানীনগর ১ ও ২ ব্লক এবং জলঙ্গি জুড়ে প্রায় ২২ হাজার একর অরক্ষিত জমিতে বাংলাদেশিরা অবাধে চাষাবাদ করছে বলে আনন্দবাজারের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে ভারতের ভেতরে তো দূরের কথা, আন্তর্জাতিক সীমারেখা বরাবর চাষাবাদ করাই অসম্ভব ব্যাপার। সেখানে শূন্যরেখা বরাবর বিজিবি সদস্যরা রাত-দিন টহল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমটির সংবাদে আরও বলা হয়, কয়েক দিন আগে দুজন বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় গেলে বিএসএফ তাদের আটক করে। পরে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে রানীনগর সীমান্তের গ্রাম থেকে দুজন গ্রামবাসীকে তুলে নেয় বাংলাদেশি দুষ্কৃতকারীরা। বাস্তবে ২ জুলাই জলঙ্গি সীমান্তে দুটি ঘটনা ঘটে যা পত্রিকার মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। সেদিন সাড়ে ১১টায় নয়ন শেখ ও শহিদুল শেখ নামে জলঙ্গি নিবাসী দুই ভারতীয় চোরাকারবারি অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে। তারা বাংলাদেশের ইউসুফপুর গ্রামে ঢুকে মাদক ব্যবসা ও অর্থ লেনদেন নিয়ে বিবাদে স্থানীয় লোকজনের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয়রা ব্যাপারটিকে সহজভাবে না নিয়ে তাদের ঘেরাও করে। পরে ইউসুফপুর বিজিবি ক্যাম্প খবর পেয়ে ভারতীয় দুজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের হেফাজতে নেয়। অপরদিকে একই দিন ১২টায় বিএসএফ টহল দল অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ৩০০ মিটার (পিলার ৭২/৪-এস বরাবর) প্রবেশ করে। তারা ইউসুফপুর থেকে তিনজন নিরীহ ও নিরপরাধ কৃষককে ধরে নিয়ে যায়, যারা চর এলাকায় চাষাবাদ করে বাড়ি ফিরছিল। উভয় ঘটনার রেশ ধরে ওই দিন বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক হয়। পরে ৩ জুলাই শান্তিপূর্ণভাবে দুই দেশের নাগরিকদের হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যাপারটি সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হয়।

বিজিবির প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, মুসলমান-অধ্যুষিত ওই এলাকায় বিএসএফের সঙ্গে জনগণের বৈরী সম্পর্ক, স্থানীয় গরু চোরাকারবারিদের এই মৌসুমে কাজ করতে না পারা, মাছ ধরার সময় স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে বিএসএফের চাঁদা আদায় এবং সর্বোপরি স্থানীয় বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ব্যর্থতা ঢাকতে ভারতীয় জনগণ অথবা স্বার্থান্বেষী মহল কর্র্তৃক গণমাধ্যমে ওই খবর প্রদান করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত