শ্যুটিংয়ে করোনার বাগড়া

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০৭:২৯ এএম

জনপ্রিয় নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় ‘প্রাণপ্রিয়’ নাটকের মাধ্যমে গত ৭ জুলাই সাড়ে তিন মাস পর শ্যুটিংয়ে ফেরেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় জুটি মেহজাবিন ও অপূর্ব। সঙ্গে ছিলেন সমু চৌধুরী। সিএমভির প্রযোজনায় নির্মিত এই নাটকের লাইটম্যান, মেকআপম্যান, প্রোডাকশনবয়সহ শ্যুটিং ইউনিটের ৩০ জনের করোনা পরীক্ষা করিয়ে শ্যুটিং শুরু হয়। তবে দ্বিতীয়বার করোনা টেস্ট করানোর পর ইউনিটের দুজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে একজন অভিনেতা, অন্যজন মেকআপম্যান। এ অবস্থায় ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর ওই নাটকের নির্মাতা-অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা আলোচনা করে শ্যুটিং বন্ধ রাখেন। এ বিষয়ে নির্মাতা আরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি, অপূর্ব ভাই ও মেহজাবিন টেস্ট করতে দিয়েছি। এ ছাড়া টিমের সবাই আলাদাভাবে আবার করবে। আমরা এখন যার যার বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। আমরা কিছুতেই চাই না আমাদের জন্য পরিবারের অন্য আরও কোনো ধরনের সমস্যা হোক। তাই নিজ দায়িত্বেই সবার থেকে আলাদা আছি। কমপক্ষে ১৪ দিন আলাদাই থাকব।’ শ্যুটিং ইউনিটে দুজন যে করোনা পজিটিভ, সেটা তিনি জানেন কি না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘তারা তো নেগেটিভ ছিল। শ্যুটিংয়ের প্রথম দিন তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আবার টেস্ট করাই। পরের দিন পজিটিভ আসে। প্রথমবার টেস্ট করার জন্য স্যাম্পল দিয়েছিল ৫ তারিখে। রিপোর্ট পায় ৬ তারিখে। মাঝে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। এ সময় আসা-যাওয়ার মধ্যে কি হতে পারে না? তবে কারও নাম নেব না, দুজন করোনা পজিটিভ।’ মেহজাবিন অবশ্য শ্যুটিংয়ের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলছিলেন। তিনি বলেন, ‘শ্যুটিংয়ের আগেই সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে পুরো ইউনিটের লোকদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সবার করোনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পরই দৃশ্য ধারণে অংশ নিয়েছি। এত সতর্কতার পরও আমরা বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম না। এখন তো কাজে ফিরতেই ভয় করছে। আমি আবারও করোনা পরীক্ষা করতে দিয়েছি। জানি না রিপোর্ট কী আসবে। কিছুটা চিন্তা তো থেকেই যায়।’

অপূর্ব বলেন, ‘কাজের পরিবেশ আগের মতো নেই এটা না বললেও অনুমান করতে পারবেন সবাই। জীবন নিয়ে সবাই ঝুঁকি বোধ করছেন। তারপরও কেউ থেমে নেই। সবকিছু চলছে। কারণ, জীবন থেমে থাকে না। আবারও কাজে ফিরতে পেরে এক ধরনের মুক্তির স্বাদও পেয়েছিলাম। তিন মাস পর স্বাস্থ্যবিষয়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই গত ৭ জুলাই সুস্থ ২২ জনের ইউনিট নিয়ে আমরা নাটকটির দৃশ্যধারণে অংশ নিই। সেদিনই ইউনিটের দুজন সদস্য সামান্য অসুস্থবোধ করেন। ওই সময় ইউনিটের দায়িত্বে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো করোনা পরীক্ষা করানো হয়। পরদিন নাটকটির আর মাত্র দুটি দৃশ্য শ্যুটিং বাকি ছিলÑ এমন সময় জানতে পারলাম সেই দুজনের করোনা পজিটিভ। তাই শ্যুটিং বন্ধ করা হয়। এখন নিজেই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আবার করোনা পরীক্ষা করতে দিয়েছি। করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও আরও কিছুদিন পর আরেকবার পরীক্ষা করব। কোনো সমস্যা না থাকলে তারপর শ্যুটিংয়ে নামব। কারণ, প্রত্যেকেরই জীবিকা আছে। তবে আগের মতো কাজ করা সম্ভব হবে না। কতটা করতে পারব তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। ঈদের জন্য চার-পাঁচটা কাজ করার ইচ্ছা আছে।’

করোনার এই দুর্যোগকালে প্রাথমিক অবস্থায় কয়েক মাস শ্যুটিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও মাসদুয়েক পর অবস্থা বিবেচনায় ঈদুল ফিতরের আগেই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হয়। তবে তখনো শ্যুটিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি অনেক তারকা। কিন্তু সামনেই আসছে ঈদ, যেখানে তারকাদের চাহিদা আকাশচুম্বী। তাই দায়িত্ববোধ থেকে কড়া নিরাপত্তায় একে একে শ্যুটিংয়ে ফেরেন কয়েকজন তারকা। কয়েকজন রয়েছেন শ্যুটিংয়ে ফেরার প্রস্তুতিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত