শতাধিক জনপ্রতিনিধির ‘আমলনামা’ দুদকে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ০৬:১০ এএম

সারা দেশের শতাধিক জনপ্রতিনিধির দুর্নীতির ‘আমলনামা’ এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে। কমিশন ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে ৯৪ জনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে। এদিকে কমিশনে সরাসরি ও হটলাইনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির অভিযোগ জমা হচ্ছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগের বেশিরভাগই করোনাকালে সরকারের নেওয়া ত্রাণ ও নগদ অর্থসহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত। জনপ্রতিনিধিরা প্রকৃত দুস্থদের বঞ্চিত করে সরকারি ত্রাণ ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১০ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা গত ২০ জুন পর্যন্ত ছিল ১০০ জন। তাদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩০ জন চেয়ারম্যান, ৬৪ জন সদস্য (মেম্বার), একজন জেলা পরিষদ সদস্য, চারজন পৌর কাউন্সিলর এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানও রয়েছেন কয়েকজন। 

এ প্রসঙ্গে দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, কমিশনে জমা হওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৭ জুন পর্যন্ত কমিশন ৯৪ জনপ্রতিনিধির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নিয়েছে। এর মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ৩০ জন ও মেম্বার ৬৪ জন। কমিশনের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মহাপরিচালক একেএম সোহেলের নেতৃত্বে যাচাই-বাছাই কমিটি প্রাপ্ত অভিযোগগুলো বাছাই করে ৯৪ জনপ্রতিনিধির দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও যেসব অভিযোগ জমা হচ্ছে সেগুলোও বাছাই চলছে। এই সংখ্যা শতাধিক হতে পারে।

কমিশনের কাছে কী ধরনের অভিযোগ জমা হচ্ছে জানাতে চাইলে বাছাই কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাকালে অনিয়ম ছাড়াও জনপ্রতিনিধি থাকাকালে ভুয়া প্রকল্প করে অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ জমা হচ্ছে।’

দুদকে গত ১ জুলাই একটি অভিযোগ জমা হয় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদের বিরুদ্ধে। কমিশনের অভিযোগ বাছাই কমিটি অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, মুরাদ করোনাকালে ত্রাণের অর্থ আত্মসাতসহ চেয়ারম্যান থাকার সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সম্পদ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। দুই ছেলে ইমাদুল ইসলাম ইমাদ ও রাহাতুল ইসলাম ইনানও বেপরোয়া। ভাগ্নি ভাবিয়া আলম নোভা মামার প্রশ্রয়ে থেকে এলাকায় গড়ে তুলেছে ব্ল্যাক মেইলিং গ্রুপ। তারা নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও বিভিন্নজনকে হুমকিধমকি দিতে গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী।    

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি ইত্যাদি প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন মুরাদ। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়েও হাতিয়ে নেন সরকারি অর্থ। তার কয়েকটি নমুনা তুলে ধরা হয় অভিযোগে। এতে বলা হয়,  ইসলামপুর গ্রামের তাহিরুলের বাড়ি থেকে পিআইও ব্রিজ পর্যন্ত আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ না করে হাতিয়ে নেন প্রায় তিন লাখ টাকা। এছাড়া ইসলামপুর গ্রামের গার্ডওয়াল নির্মাণের নামে এলজিএসপির বরাদ্দ করা ৬৫ হাজার টাকা, ইসলামপুরের জিনামিয়ার বাড়ির সামনের সড়কের গার্ডওয়াল নির্মাণ দেখিয়ে হাতিয়ে নেন ৫০ হাজার টাকা, ইউপির ১নং ওয়ার্ডের গরুর হাট ও গ্রামের সংযোগ সড়কের ড্রেন নির্মাণের ভুয়া কাজ দেখিয়ে হাতিয়ে নেন আড়াই লাখ টাকা। এভাবে বহু ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মুরাদ।

জমা হওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়, নিজ পরিবারের সম্পদ আত্মসাতের জন্য তিনবার উত্তরাধিকার সনদ জালিয়াতি করেন মুরাদ। প্রভাব খাটিয়ে আমেরিকা প্রবাসী ভাই জিয়াউল ইসলাম বাবুল, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম হেলাল ও বোন লুৎফা খানমের নাম বাদ দিয়ে ভুয়া সনদ তৈরি করেন। ওই সনদে নিজের নামসহ দেশে বসবাসরত তিন বোন মুক্তা, শেফা ও ফৌজিয়ার নাম ছিল। প্রবাসে থাকা দুই ভাইর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে তারা জানতে পারলে মুরাদ কারসাজির মাধ্যমে তিনবার সদন বদল করেন। পরে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. বদরুদ্দোজা ভুয়া সনদ বাতিল করেন। সাবেক এই চেয়ারম্যান নিজ মালিকানাধীন জমি বিক্রিতেও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এমনকি এলাকার অনেকের বিভিন্ন তদবিরের কাজ করে দেওয়ার নাম করেও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। কাজ না হলে এসব টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য তার কাছে বারবার ধরনা দিয়েও ব্যর্থ হন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে আরও বলা হয়, মুরাদ ২০০৩ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন না করে আদালতে মামলা করে দায়িত্ব পালন করে যান ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিরুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা অভিযোগ। আমার নিজের পৈতৃক সম্পদ আমি কেন আত্মসাৎ করব। ভাই-বোনরা আমাকে সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ায় নিজের নামে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে রেখেছিলাম। তাছাড়া ভুয়া প্রকল্পসহ যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলোও সঠিক নয়। দুদক সরেজিমন তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনসহ বেশকিছু প্রজ্ঞাপন দুদকের নথিতে জমা হয়েছে। এসব প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির জন্য বেশকিছু চেয়ারম্যান মেম্বারকে বরখাস্ত করেছে। কমিশন তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ছে। দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় নাম রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবার মেহারী ইউপি চেয়ারমান মো. আলম মিয়া এবং সদর উপজেলার বুধল ইউপির সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদা বেগমের নাম। এদের বিরুদ্ধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চাল আত্মসাৎ ও উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম করার অভিযোগ আছে পিরোজপুর নাজিরপুরের কলারদোয়ানিয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মনিরুল ইসলাম ও ৮নং ওয়ার্ডের মো. আবুল কালাম, মাগুরা মহম্মদপুরের ৮নং নহাটা ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য কাঞ্চন মিয়া, ময়মনসিংহ মুক্তাগাছার ৪নং কুমারগাতা ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মফিজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য রইছ উদ্দিন, জয়পুরহাট সদরের বম্বু ইউপির ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মেম্বার পারভীন আক্তার ও ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. লোকমান হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুরের গোমস্তাপুর ইউপির ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মুসলেমা বেগম,  নোয়াখালী হাতিয়ার ৬নং চরকিং ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

কমিশনের অনুসন্ধান তালিকায় আরও আছেন পাবনার বেড়ার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কোরবান আলী, সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জের পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, বরগুনা পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন পল্টু, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের ১নং আন্দারমানিক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা দেবীদ্বারের সুবিল ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবদুল মান্নান মোল্লা, ঢাকা নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সেকান্দার মিয়া, কিশোরগঞ্জ ভৈরবের গজারিয়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহেল মিয়া, ভোলা লালমোহনের ১নং বদরপুর ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মুহাম্মদ ওমর এবং একই ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জুয়েল মিয়া। তালিকায় আছেন শরীয়তপুর কুচাইপট্টি ইউপি চেয়ারম্যান বিএম নাসির উদ্দিন স্বপন, ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোফাজ্জেল বেপারি এবং ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শামীম বেপারি, মাদারীপুর সদরের শিরখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বাগেরহাট রামপালের পেড়িখালী ইউপির ১নং ওয়ার্ডের রুবেল ইজারাদার ওরফে বাবুল মেম্বার, নড়াইলের মাইজপাড়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের মো. সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, শরীয়তপুর জাজিরার বিলাসপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের মো. সেলিম মোল্লা, ঝালকাঠির নলছিটির সুবিদপুর ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম খান সোহাগ, মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের মুজিবুর রহমান একই ইউপির ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সাহিদা বেগম রূপা। তালিকায় আরও আছেন রাজশাহী চারঘাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজু আহম্মেদ, ভোলা মনপুরার উপজেলার মনপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমানত উল্লাহ আলমগীর এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মানকোন ইউপির ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নাজমিন আক্তার লাভলী, কক্সবাজার পেকুয়ার টৈটং ইউপির জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, নরসিংদীর রায়পুরার চর-আড়ালিয়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের মো. বাচ্চু মিয়া, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম এবং দৌলতপুরের দৌলতপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. হাবিবুর রহমান। তালিকায় আছেন বরিশাল বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. নূরে আলম বেপারি, ভোলা সদরের উপজেলার রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান, পটুয়াখালী সদরের কমলাপুর ইউপির মো. মনির রহমান মৃধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুর ইউপির শাহ আল শফি আনসারী, রাজবাড়ী পাংশার যশাই ইউপির মো. সিদ্দিকুর রহমান ম-ল, নড়াইল কালিয়ার পেড়লী ইউপির জারজিদ মোল্লা এবং কালিয়া উপজেলার জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী, নেত্রকোনা দুর্গাপুরের গাঁওকান্দিয়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালীর গলাচিপার গলাচিপা ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মহিউদ্দিন সোহেল এবং একই উপজেলার কেশবপুর ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য লিপি বেগম। আছেন বগুড়া শিবগঞ্জের ময়দানহাট্টা ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান এস এম রুপম, হবিগঞ্জ সদরের গজনাইন ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল, মাদারীপুর কালকিনির নবগ্রাম ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উত্তম বিশ্বাস ও রংপুর পীরগঞ্জের রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান।

জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে কমিশনের নিয়মিত অভিযান স্থগিত রাখা হলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্য খাতে চিহ্নিত দুর্নীতিপরায়ণদের বিরুদ্ধে অভিযান অভিযান অব্যাহত আছে এবং আরও গতিশীল করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যারা সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে সরকারি চাল আত্মসাৎ, সরকারি ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি, জেলেদের ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম, উপকারভোগীদের ভুয়া তালিকা প্রণয়ন করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ করেছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইতিমধ্যে কমিশন সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ২১টি মামলা করেছে। এসব মামলায় অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। মামলাগুলো  তদন্ত করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৯৪ জনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান কঠোর। কারও প্রতি ন্যূনতম নমনীয় হওয়ার সুযোগ নেই। ত্রাণ দুর্নীতিবাজ প্রত্যেককেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত