সাধারণ ক্যাডারে প্রকৌশলী কৃষিবিদ চিকিৎসক নয় কেন?

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ০৭:০০ এএম

এই লেখাটির শিরোনাম এটাও হতে পারে : সাধারণ ক্যাডারে প্রকৌশলী কৃষিবিদ চিকিৎসক কেন? তবে যা হওয়ার সুযোগ নেই তা হচ্ছে, টেকনিক্যাল ক্যাডারে সাধারণ বিষয়ের শিক্ষার্থী নয় কেন? সর্বশেষ বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছে। কে কেমন করে ক’ঘণ্টা পড়ে কিংবা কত কষ্ট করে বিসিএস বৈতরণী পার হয়েছেন, রঙিন ছবিসহ তা কাগজের পাতায় কিংবা অনলাইনে প্রকাশিত হচ্ছে। পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য ২৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০ জনই ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী। ৭ জন ডাক্তার, ১৩ জন প্রকৌশলী, প্রকৌশলীদের ১০ জন বুয়েটের। পরীক্ষায় যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেশিসংখ্যক সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের মধ্যে থাকেন, সে প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অবশ্যই অভিনন্দন জানানোর রেওয়াজ আছে। শুধু পররাষ্ট্র ক্যাডারেই ১০ জন। অন্যান্য ক্যাডারও আছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানাব কি না এ নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত। দেশ জয়ের মতো তার মেধাবী ছাত্ররা অনেক ক্যাডার রীতিমতো জয় করে তাকে সন্তুষ্ট করেছেন? প্রকৌশল ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার শেখানো দুর্লভ জ্ঞান জীবনে তারা আর কখনো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না, এ কারণে তিনি ব্যথিত কি না তা আমার জানা নেই। যদি ব্যথিত হয়ে থাকেন, আমার অভিনন্দন তাকে আরও জ¦ালা দেবে।

৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণ ক্যাডারে ১৩২০ জন প্রকৌশলী সাধারণ বিষয়ের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে কিংবা টপকে জায়গা করে নিয়েছেন। তারা মেধাবী, তারা কর্মক্ষেত্রে ভালো করতেন এ প্রত্যাশা আমি করতেই পারি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ৩৬তম বিএসএস পরীক্ষায় এ ধরনের এত ডাক্তার থাকতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অ্যাকাউন্টিং পড়া একজন জেনারেলিস্ট হবেন?

এত প্রকৌশলী থাকতে গণপূর্ত সচিব কেন সাধারণ বিএ পাস করা একজন জেনারেলিস্ট হবেন? এই প্রশ্নগুলো চাকরি জীবন শুরুর প্রথম মাস থেকেই শুনে আসছি, কখনো কখনো এই দাবি পূরণ হয়েছে। আমি বরং ভেবেছি এখন যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও কৃষিবিদ হয়ে সাধারণ ক্যাডারে ঢুকছেন, তাদের মধ্য থেকে এসব পদের জন্য যোগ্য মানুষটিকে বসালে বঞ্চিত হওয়ার বেদনা থাকবে না। কিন্তু প্রকৌশলী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম আমাকে বললেন, ২৮ বা ৩০ বছর পর প্রকৌশলী কিংবা চিকিৎসক যখন সচিব হবেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সামান্য কাজ না করা, আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজনও রোগী না দেখা চিকিৎসককে তখনো কি ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার বলা যাবে?

তিনি জানালেন, প্রকৃচি (প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক) আন্দোলনের সময় তিনি লিখিতভাবে প্রকৌশলী পরিষদকে লিখেছেন এবং তা ছাপাও হয়েছিল যে, তিনি প্রকৌশলী হওয়ার জন্যই পড়াশোনা করেছেন, প্রকৌশলী হিসেবে তাকে ঘিরে তার পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তিনি প্রকৌশলী হিসেবে অবদান রাখতে পারছেন, এ আন্দোলন করে সচিবালয়ের কলমপেষা পদে যাওয়ার জন্য তার কোনো আগ্রহ নেই, সচিব তার কাছে কোনো লোভনীয় পদ নয়। অধ্যাপক শামসুল আলমের এই কথাটি কি উড়িয়ে দেওয়ার মতো? তা নয়! তাহলে মেধাবী ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াররা এসব পদে যাওয়ার জন্য কেন উঠেপড়ে লেগেছেন? এখানেই বাজারের ধ্রুপদী তত্ত্ব কাজ করে, সহকারী কমিশনারের পদ যে চাহিদা সৃষ্টি করতে পেরেছে, সহকারী প্রকৌশলী বা মেডিকেল অফিসার পদটি তা করতে পারেনি। যে বৈষম্যের কারণে এই চাহিদা তা দূর না করলে আগামীতে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর অব কাস্টমস বা এএসপি হওয়ার জন্য।

দুই ॥ ২২ বছর আগে বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার ‘ক্যাডার দ্বন্দ্ব’ বা ‘ক্যাডার সম্পর্ক’ নিয়ে স্বল্পপরিসরে একটি সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বিসিএস প্রশাসন কিংবা কোনো টেকনিক্যাল ক্যাডারের পক্ষপাত বা ‘বায়াস’ যাতে প্রতিফলিত না হয়, সেজন্য সমীক্ষকদের দলনেতা নির্বাচন করা হয় অধ্যাপক এ কে এম শামসুল আলমকে। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য, ইংরেজির অধ্যাপক, চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ এবং সরকারের অতিরিক্ত সচিব। তার দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (তখন এ নামই ছিল), ইরতিজা আহমদ চৌধুরী পিএটিসির গবেষণা শাখার কর্মকর্তা, পরে পরিচালক শফিকুল হক এবং আমিও ছিলাম। আমি তখন প্রশাসন ক্যাডারে চাকরিরত! মাঠের তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহকারীদের সবাইকেই শিক্ষার্থী, তাদের তখনো বস্তুনিষ্ঠ থাকার সম্ভাবনাই বেশি : শফিকুল হক তাদের প্রশিক্ষণ দেন, প্রশ্নপত্র তৈরি করেন এবং সাড়া গ্রহণের পর তথ্য ও উপাত্ত সারণিভুক্ত করেন। আমি মূলত তথ্য ও উপাত্তের ওপর আলোচনার খসড়া তৈরি করে অধ্যাপক আলমকে দিই। তিনি খসড়া চূড়ান্ত করেন।

সমীক্ষার শিরোনাম ছিল CADER CONFLICT : AN INVESTIGATION INTO CONFLICTS IN BANGLADESH CIVIL SERVICE, উপস্থাপনা পর্বে কনফ্লিক্ট শব্দটি নিয়ে আপত্তি করা হলে সেখানে রিলেশনস শব্দটি প্রতিস্থাপিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আপত্তিটি যথার্থ দ্বন্দ্ব বলে ব্যাপারটিকে ঋণাত্মক না করে সম্পর্ক বলে ধনাত্মক রাখাই ভালো। সম্পর্কের মধ্যে তো দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে! ১৯৯৮-এর সেপ্টেম্বরে খসড়াপত্র হিসেবে প্রকাশিত এই কাজটি সাধারণ ক্যাডার, টেকনিক্যাল ক্যাডার বা নন-ক্যাডার কাউকেই নয়, উৎসর্গ করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে যারা গোঙ্গায়, রক্তাক্ত হয়, সফল দ্বন্দ্বমুখর ক্যাডার পরস্পরের বিরুদ্ধে ছুরিতে শান দেয়। সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ের দ্বন্দ্ব তুলে আনা, সচেতনভাবেই ঢাকা শহরের কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ছয় বিভাগের নির্বাচিত ছয়টি জেলা ছিল ময়মনসিংহ, ঝালকাঠি, মাগুরা, জয়পুুরহাট, মৌলভীবাজার ও কক্সবাজার। ক্যাডার (সাধারণ-টেকনিক্যাল) নন-ক্যাডার, কর্মকর্তা এবং পৃথকভাবে সিভিল সোসাইটির সদস্যরা সাড়া দিয়েছেন।

উত্তরদাতাদের কিছু জবাব যথেষ্ট আগ্রহোদ্দীপক (১) ৪৯% উত্তরদাতা মনে করেছেন তাদের চাকরি তাদের পড়াশোনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। (২) পছন্দের ক্যাডারটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেই এখানে এসেছেন। (৩) ১৮.৫ ভাগের সরকারি চাকরিতে আসা এবং নির্দিষ্ট ক্যাডার পছন্দ করা পারিবারিক চাপে। (৪) ৫ ভাগ বলেছেন, পছন্দের ক্যাডার নম্বর কম থাকায় পাননি, কাজেই যা দিয়েছে তাই মেনে নিয়েছেন। (৫) ৪২.৯ ভাগ উত্তরদাতা কর্মসন্তুষ্টি পাচ্ছেন। অসন্তুষ্টের সংখ্যাই বেশি। প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৬৬.৭ ভাগ, ডাক্তারদের ৭৫ ভাগ এবং প্রকৌশলীদের ৮৪.৬ ভাগ আকাক্সিক্ষত কর্মতুষ্টি ভোগ করছেন না। (৬) ৭৬.৯ ভাগের বেলায় অসন্তুষ্টির প্রধান কারণ পদোন্নতির যোগ্য হয়ে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু পদোন্নতি হচ্ছে না, ২৪.৪ ভাগের জন্য কর্মপরিবেশ অনুকূল নয়। প্রকৌশলী কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের অসন্তুষ্টির উল্লেখযোগ্য কারণ বিসিএস প্রশাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। (৭) ৫৬.৬ জন কর্মকর্তা বলেন, তাদের নিত্যকার কাজে বাইরের হস্তক্ষেপ ঘটে। (৮) জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ আছে, সবচেয়ে বড় অভিযোগ অন্য দপ্তরের গাড়ি রিকুইজিশন করা। (৯) জেলাপর্যায়ের কাজের জন্য একজন সমন্বয়কারী দরকার বলে ৯৩.৯ ভাগ মনে করেন। ৩১.৫ ভাগ মনে করেন এই দায়িত্ব ডেপুটি কমিশনারকে দেওয়া উচিত। ৫৬.২ ভাগ মনে করেন এ দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নন-ক্যাডার অফিসারদের সবাই ডেপুটি কমিশনারকে চান। (১০) জেলায় দ্বন্দ্ব মূলত ডেপুটি কমিশনারের ক্ষমতা ও ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে। প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে যারা, বিশেষ করে টেকনিক্যাল ক্যাডারের সদস্যদের কিছু জবাব : তিনি অন্য বিভাগের অফিসারদের তার অধীনস্থ মনে করেন, তিনি উন্নয়ন ব্যবস্থাপকের বদলে প্রশাসকের ভূমিকা পালন করেন, যে ব্যাপারে তার বিশেষায়িত জ্ঞান নেই সে বিষয়ের কাজও নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার বহুসংখ্যক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, তিনি তাদের গাড়ি রিকুইজিশন করেন। জেলার ডেপুটি কমিশনারের হয়ে তরুণ সরকারি কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তাদেরই গাড়ি রিকুইজিশন করে তারা দায়িত্ব পালন করতে যান।

বিভিন্ন বিভাগের সচিব ও মন্ত্রী তাদের বিভাগের কাজের অবস্থা ও অগ্রগতি নিয়ে ডিসির সঙ্গে আলোচনা করেন, ফলে বিভাগীয় প্রধান উপেক্ষিত থেকে যান। একই সময় বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে ঢুকে জেলায় এসে দেখেন পদোন্নতি পেয়ে বিসিএস প্রশাসনের কর্মকর্তা তার বসের সমতুল্য হয়ে গেছেন। একই অসন্তোষ প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের। তারা ইউএনও থাকা অবস্থাতেই পুলিশ সার্ভিসের ব্যাচমেট এসপি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি পররাষ্ট্র ক্যাডারের ব্যাচমেটদেরও রাষ্ট্রদূত হই হই অবস্থা! আর একটি প্রশ্নের জবাবে সুশীলসমাজের সদস্যদের মন্তব্য : ডেপুটি কমিশনার ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক, সুতরাং এটার আর দরকার নেই। নিজের সন্তানের জন্য কোন ক্যাডার তাদের পছন্দ, এ প্রশ্নের জবাবে ৩৭ ভাগই চাচ্ছেন প্রশাসন ক্যাডার, কারণ তাদের ক্ষমতা আছে, ডিসিই জেলার প্রধান। ছেলে ডিসি হোক এটা চান। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও কৃষিতে মোট সাড়া ১৫ ভাগ। এটা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক বৈপরীত্য। উদ্ভূত দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য সে সময় যেসব পরামর্শ সবার কাছ থেকে উঠে এসেছিল, তার মধ্যে রয়েছে : ক্যাডার পদ্ধতি বিলোপ করা হোক; কেবল দুটি ক্যাডার করা হোক : সাধারণ ও টেকনিক্যাল। বেতন-বৈষম্য দূর করা হোক : সব ক্যাডারের ট্রেড ইউনিয়ন প্রকৃতির অ্যাসোসিয়েশন বিলুপ্ত করা হোক। এ ধরনের আরও কিছু সুপারিশ উত্তরদাতাদের মাঝখান থেকে এসেছে। বর্তমান অবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ মনে হয়েছে : বিশেষায়িত পেশাদার যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও কৃষিবিদ তাদের সাধারণ ক্যাডারে প্রবেশ রহিত করার আদেশ জারি করতে হবে।

তিন ॥ ২২ বছর আসে বিসিএস প্রশাসনের যে গুরুত্ব ছিল, তা এখন নেই : সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় বিচার বিভাগ পৃথক হয়ে ম্যাজিস্ট্রেসি চলে গেছে জুডিশিয়াল সার্ভিসের হাতে। ১৯৯৩ সালের ২৪ অক্টোবর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের সারাংশ তুলে ধরছি : ‘প্রকৃচি ও বিসিএস সেন্ট্রাল অ্যাকশন কমিটির যৌথ বৈঠকে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার জন্য বিসিএস প্রশাসনের সদস্যদের গণবিচারের দাবি জানানো হয়।’ আমি প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক সদস্য হলেও এই দাবির সঙ্গে তখনো একমত ছিলাম, এখনো একমত! পেশাদারিত্ব ভুলে লেজুড়বৃত্তিতে যারা মজে আছেন, যে ক্যাডারেরই হোন, তাদের কী হওয়া উচিত? গণবিচার! ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ কিংবা সাধারণ শিক্ষার গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে রাষ্ট্র কার পেছনে কত টাকা খরচ করছে, সে প্রসঙ্গ না তুলে শুধু এটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আরও দক্ষ আইসিএসরা যখন ব্রিটিশ শাসনের স্টিল ফ্রেম হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তখন তারা বিএ পাস করে চাকরিতে ঢোকেননি, এমনকি তাদের ম্যাট্রিক কিংবা এনট্রান্স পাস না হলেও চলত! হেইলব্যারি কলেজে শাসনের প্রশিক্ষণ নিয়ে চলে আসতেন ভারতে, হোক উপনিবেশবাদী, তাদেরটাই ছিল সে সময় বিশে^র শ্রেষ্ঠ শাসন। আমলার কাজ রাষ্ট্রের (সরকারের নয়) লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।

আমি চাকরিতে ঢুকে প্রথম ক’বছর যে কাজ করেছি, তাতে আমার এসএসসি জ্ঞানের পুরোটাও কাজে লাগেনি। আমি বাংলাদেশকে যথেষ্ট ভালোবেসেই প্রস্তাব করছি, বিসিএস পরীক্ষায় বসার জন্য গ্র্যাজুয়েট হওয়ার কোনো দরকার নেই। উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বিভাগে পাস করলেই সিভিল সার্ভিসের জন্য পরীক্ষায় বসতে পারবে। যাদের নেওয়া হবে পুরো তিন বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে ঠিক করে দিন কে কোন ক্যাডারে যাবে। তাতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর রাষ্ট্রীয় অপচয়ও রোধ হবে। শুধু এটুকু লক্ষ রাখতে হবে, প্রশিক্ষকরা হবেন পেশাজীবী দলদাস নন।

লেখক

সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত