রাজধানীতে এক ভুয়া চিকিৎসককে দণ্ড দিয়ে তার হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন সুমন নামে ওই ব্যক্তি চিকিৎসক পরিচয়ে টক শোতেও অংশ নিতেন। ‘চিকিৎসা পেশায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাওয়া’ অসংখ্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না সুমনের। রোগীকে পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দিতেন তিনি। গতকাল রবিবার র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ডেমরায় সুমনের মালিকানাধীন এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল সেন্টারে অভিযানে গিয়ে এসব তথ্য জানতে পারে।
ওই হাসপাতালে কর্মরত ১২ ‘চিকিৎসকের’ বেতন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৩ ডেমরার সারুলিয়া এলাকার ওই হাসপাতালে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালায়।
সম্প্রতি আলোচিত সাহেদ করিমের রিজেন্ট হাসপাতালেও অভিযান চালিয়ে তার সব শাখা সিলগালা করে র্যাব। সাহেদ করিমও ভুয়া পরিচয় দিতেন এবং টক শোতে অংশ নিতেন।
র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল সেন্টার সিলগালা করে সুমনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া হাসপাতালটির কর্মচারী অসীম ম-লকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাস এবং ফার্মেসি পরিচালক কাকন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। সুমনের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকিতে। চিকিৎসা পেশায় কথিত অবদানের জন্য তার অসংখ্য ক্রেস্ট থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করতেন এর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন। তিনি রোগী দেখা অবস্থায় আমরা সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানের সময় তিনি আমাদের চিকিৎসা সনদ বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেননি। তবে তার চেম্বারে চিকিৎসকের সিল, প্যাড ও ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে। চিকিৎসায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্রেস্ট এবং টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণের সনদও রয়েছে তার।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুমন নিজেকে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিতেন। রোগীদের বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিতেন। তার হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং কার্বন-ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডারকে অক্সিজেন সিলিন্ডারে রূপান্তরসহ নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক আছেন জানালেও আসল চিকিৎসক মাত্র একজন।’
