কলকাতা থেকে আসছে ‘এমভি সেঁজুতি’

ভারতীয় পণ্যের পরীক্ষামূলক ট্রান্সশিপমেন্ট শুরু হচ্ছে

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৭:২৭ এএম

শুরু হচ্ছে ভারতীয় পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট। কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ বন্দর থেকে ট্রান্সশিপমেন্টের কনটেইনার নিয়ে আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে পারে ‘এমভি সেঁজুতি’ নামের কনটেইনার জাহাজ। বন্দর ও কাস্টমসের শুল্ক পরিশোধ শেষে কনটেইনারগুলো সড়কপথে আখাউড়া হয়ে নিয়ে যাওয়া হবে ভারতের আগরতলায়। বন্দর কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি প্রস্তুত। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে জানান তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েক মাস আগে ভারতের ট্রান্সশিপমেন্টের ট্রায়াল রান শুরু হওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য বেশ আগেই আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ১৪ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ বন্দর থেকে এমভি সেঁজুতি চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারে বলে জানা গেছে। অন্য কনটেইনারের সঙ্গে চারটি ট্রান্সশিপমেন্টের কনটেইনার আসার কথা রয়েছে। এসব পণ্যের ওপর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ট্যারিফ নেওয়া হবে।

কনটেইনার জাহাজ এমভি সেঁজুতির স্থানীয় এজেন্ট ম্যাংগো লাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৫৫ টিইইউস (টুয়েন্টি ফিট ইউনিটস ইক্যুইভেলেন্ট) কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শ্যামাপ্রসাদ বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেখানে কনটেইনারগুলো খালাস শেষে নতুন কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। তিনি জানান, কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম আসতে একটি জাহাজের ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসাবে আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবার নাগাদ এমভি সেঁজুতি এখানে এসে পৌঁছাতে পারে। তবে ট্রান্সশিপমেন্টের কনটেইনারে কী কী পণ্য রয়েছে তা এখনো জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্যাকিং লিস্ট হাতে পাওয়ার পর বলতে পারব কনটেইনারগুলোতে কী ধরনের পণ্য রয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি হয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্যের ওপর বিভিন্ন ধরনের চার্জ নির্ধারণ করা হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ভারতীয় ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্যের ওপর কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের চার্জ আদায় হবে, সে ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি কনসাইনমেন্টে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি ৩০, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি টনপ্রতি ২০, নিরাপত্তা চার্জ টনপ্রতি ১০০, এসকর্ট চার্জ টনপ্রতি ৫০, অন্যান্য প্রশাসনিক চার্জ ১০০, প্রতিটি কনটেইনার স্ক্যানিং চার্জ ২৫৪ টাকা র্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক লক, সিল ইত্যাদির জন্য আলাদা চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সড়কপথে ভারতীয় ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুটি রুট ব্যবহার করা হবে। এর একটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আখাউড়া হয়ে আগরতলা, অন্যটি কুমিল্লার বিবির বাজার-শ্রীমন্তপুর হয়ে আগরতলা। উভয় রুটে পণ্য পরিবহনের জন্য নির্ধারিত সড়ক চার্জও আদায় করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত