রিজেন্ট সাহেদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৬ এএম

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদসহ বহুমাত্রিক জালিয়াতিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক)। এজন্য কমিশনের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন দুদকের পরিচালক  কুমার ভট্টাচার্য।

এদিকে মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) পক্ষ থেকে গত রবিবার বিকেলে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য সব ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়।

সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদক গঠিত দলের অন্য সদস্যরা হলেন- মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।

দুদক পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ, বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংকঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন্ উৎস থেকে সাহেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংগ্রহ করে। এসব তথ্য-উপাত্ত সংবলিত অভিযোগগুলো কমিশনের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপন করলে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হবে।’

করোনার ভুয়া সনদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাহেদের দুটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে বন্ধের পর গত মঙ্গলবার সাহেদসহ রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব। ওই মামলায় প্রথমে ৭ জন এবং পরে সাহেদের সহযোগী তারেক শিবলীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযানের ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সাহেদকে ‘খুঁওজ পায়নি’ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

ব্যাংক হিসাব জব্দ : মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের পক্ষ থেকে গত রবিবার বিকেলে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য সব ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তার নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।

এনবিআরের সিআইসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর নথিতে থাকা তাদের আয়-ব্যয় খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুজনের পাশাপাশি রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কেসিএসসহ সাহেদের মালিকানাধীন যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত