যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন আজ মঙ্গলবার। এই দুই আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যালটের মাধ্যমে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আজ সকাল ৯টা থেকে একটানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে কমিশনের যুগ্মসচিব (জনসংযোগ) এস এম আশাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ এবং আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটপ্রদান করতে পারেন, সেজন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটারদের ভোট প্রদান এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আসন দুটির উপনির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নিিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
করোনা পরিস্থিতির কারণে বিএনপি এই উপনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ভোট না পেছালে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণাও আসে এ দলটির পক্ষ থেকে। অপরদিকে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ জুলাই হওয়ায় এ দিনটির পরিবর্তে যেকোনো দিন ভোটগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ তাদের নেই।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, কার, বাস-ট্রাক ও টেম্পো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হযেছে। এছাড়া ১২ জুলাই দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত সব ধরনের মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আমাদের যশোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যশোর-৬ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪ হাজার ৩৯৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৭৯টি ভোট কক্ষ ৩৭৪টি। গত ৯ মার্চ প্রতীক গ্রহণ করেন নৌকা মার্কার শাহীন চাকলাদার, ধানের শীষের আবুল হোসেন আজাদ ও লাঙ্গল প্রতীকের হাবিবুর রহমান হাবিব।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অপর প্রার্থী জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, খিলাফত আন্দোলন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি ও একজন স্বতন্ত্রসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এ আসনের মোট ভোটার তিন লাখ ৩০ হাজার ৯১৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১২৩ এবং ভোটকক্ষ ৭১০টি।
বগুড়া-১ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের সহধর্মিণী সাহাদারা মান্নান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মো. রনি (বাঘ), খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন বয়কট করেছেন।
এ আসন দুটিতে গত ২৯ মার্চ উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ সময় তা স্থগিত করা হয়। এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে এ নির্বাচন করছে ইসি। ১৫ জুলাই বগুড়া-১ আসনের এবং ১৮ জুলাই যশোর-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান নির্ধারিত ১৮০ দিন শেষ হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা হয়েছে ‘সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করর জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তা হলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যশোর-৬ আসনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে গত ২১ জানুয়ারি এ আসনটি এবং একই দলের আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে গত ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসন শূন্য হয়।
